দেশের ভেতরে পোস্টাল ভোটের ক্ষেত্রে প্রার্থীর নাম ও প্রতীকসহ সাধারণ ব্যালট ব্যবহারের সুস্পষ্ট দাবি জানিয়েছে বিএনপি (BNP)। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এক বৈঠকে এই প্রস্তাব পেশ করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “পোস্টাল ব্যালট দেশের অভ্যন্তরে সর্বাধিক ব্যবহার হবে। আমরা নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ যে ব্যালট প্রার্থীর নাম ও মার্কাসহ ব্যবহৃত হয়, সেটিই যেন সংশ্লিষ্ট এলাকার পোস্টাল ব্যালট হিসেবে ব্যবহার করা হয়।”
তিনি জানান, এতে করে প্রতিটি আসনের জন্য আলাদা করে ব্যালট পাঠানোর প্রয়োজন পড়বে না, বরং প্রার্থীদের নাম ও প্রতীকযুক্ত সাধারণ ব্যালটই যথেষ্ট হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন এই দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে।
এই বৈঠকে সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, “আমরা আইনি কিছু বিষয় এবং আচরণবিধি সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরেছি কমিশনের কাছে। এছাড়া প্রবাসীদের জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালেট সংক্রান্ত কিছু অনিয়ম নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছি। অনেক জায়গায় দেখা যাচ্ছে, কোনো এক বাড়িতেই ২০০ থেকে ৩০০ ব্যালট রয়েছে, আবার কিছু এলাকায় সেগুলো জব্দ করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও ভোট গ্রহণও শুরু হয়ে গেছে, যা ২২ জানুয়ারির আগে অনিয়ম।”
তিনি উল্লেখ করেন, “এই প্রথমবার প্রবাসীদের জন্য ভোটদানের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ভুল-ত্রুটি স্বাভাবিক হলেও আমরা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। পোস্টাল ব্যালট কাদের হাতে পাঠানো হয়েছে, কীভাবে ভোট হচ্ছে—এসব বিষয়ে পরিস্কার ব্যাখ্যা প্রয়োজন।”
বিএনপি নেতার মতে, এই অনিয়মগুলো একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে ব্যবহৃত হচ্ছে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এককভাবে কোথাও ২০০–৩০০ ব্যালট পাওয়া গেলে, সেটির ব্যাখ্যা কে দেবে? পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নিয়ে কী করছে, সেটিও জনগণের জানার অধিকার।”
আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়েও নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বিএনপি। সালাহউদ্দিন বলেন, “আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সফর কমিশনের অনুরোধে স্থগিত করা হয়েছে, অথচ অন্য দলের নেতারা বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন, ভিডিও প্রকাশ পাচ্ছে—কমিশন সেগুলো নিয়ে নিশ্চুপ। আমরা কমিশনের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করেছি, আশা করি তারা ব্যবস্থা নেবে।”
বিএনপির এই প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া এবং দলের আইন সহায়তা উপকমিটির প্রধান ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।


