ইসলামী আন্দোলনের জন্য আসন ফাঁকা রেখে জামায়াত জোটের আসন ঘোষণা

জামায়াতে ইসলামীর (Jamaat-e-Islami) নেতৃত্বে গঠিত ‘১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যে’ ২৫৩টি আসনে প্রার্থিতা চূড়ান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (Islami Andolon Bangladesh) জন্য। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই আসন বণ্টনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

জোটের ঘোষিত প্রার্থী বণ্টনে জামায়াতে ইসলাম পেয়েছে সর্বাধিক ১৭৯ আসন। এরপর এনসিপি (NCP) ৩০, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০, খেলাফত মজলিস ১০, এলডিপি ৭, এবি পার্টি ৩, নেজামে ইসলাম পার্টি ২ এবং বিডিপি ২টি আসনে নির্বাচন করবে।

সংবাদ সম্মেলনে জোটের ১০ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকলেও, অনুপস্থিত ছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তাদের জন্যই ফাঁকা রাখা হয়েছে ৪৭টি আসন। তবে দলটি শেষ পর্যন্ত জোটে না এলে এসব আসনে জামায়াত প্রার্থী দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জোটসূত্র বলছে, তালিকাভুক্ত না থাকা জাগপা (JAGPA) এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনেরও ২–৩টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জোটের আসন ভাগাভাগির ঘোষণা দিতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, “আমরা আপাতত ২৫০টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করছি। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ১৭৯, এনসিপি ৩০, খেলাফত মজলিস ২০, খেলাফতে মজলিস ১০, এলডিপি ৭, এবি পার্টি ২ এবং নেজামে ইসলাম ৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। বাকি শরিকদের সঙ্গেও ঐকমত্যের ভিত্তিতে আসন বণ্টন সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।”

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এরপর কথা বলেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। ইসলামী আন্দোলনের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তারা নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বোঝাপড়া করছে। জোটে কোনো ভাঙন নেই। আশা করি, শিগগিরই তারা আমাদের সঙ্গে যুক্ত হবে।”

জোটের এই ঘোষণায় আরও উপস্থিত ছিলেন: এলডিপির সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী এবং জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।

জোটের ভেতরে এখনো কিছু বিষয় চূড়ান্ত হয়নি, তবে নেতাদের বক্তব্যে স্পষ্ট—ইসলামী দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য গঠনে এখনো দরজা খোলা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *