দেশের অভ্যন্তরে ব্যবহৃত পোস্টাল ব্যালটে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। এখন থেকে ব্যালটে থাকবে না সব প্রতীক—শুধু সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নাম ও প্রতীকই থাকবে নতুন ডিজাইনে।
গতকাল শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে নির্বাচন কমিশন এ সিদ্ধান্ত নেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এটি কার্যকর হলে দেশের অভ্যন্তরে ব্যবহার হওয়া পোস্টাল ব্যালটের চেহারা বদলে যাবে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে এ বিষয়ে প্রস্তাব দেন। বৈঠকে তারা বলেন, দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালট যারা ব্যবহার করবেন, তাদের জন্য ব্যালটের ডিজাইন যেন সহজ হয়। সেজন্য প্রার্থীর নাম ও প্রতীক রাখা, কিন্তু সব মার্কা না রাখার পরামর্শ দেন তারা।
বৈঠক শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “পোস্টাল ব্যালট দেশের ভেতরে বেশি ব্যবহার হবে। তাই এখানে শুধু সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নাম ও প্রতীক রাখার স্পষ্ট প্রস্তাব দিয়েছি। ভোটার যেন সহজে ভোট দিতে পারেন—সে পরিবেশ নিশ্চিত করাটাই গুরুত্বপূর্ণ।”
এদিকে বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, পোস্টাল ব্যালটে নির্দিষ্ট কিছু দলকে বাড়তি সুবিধা দিতে দাঁড়িপাল্লা, হাতপাখা ও শাপলা কলি প্রতীকগুলোকে প্রথম লাইনে রাখা হয়েছে।
তবে এ অভিযোগের ব্যাখ্যায় নির্বাচন কমিশন জানায়, পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনের ক্ষেত্রে সরকারি গেজেটের ক্রমধারা অনুসরণ করা হয়েছে। একইভাবে বিদেশে পাঠানো ব্যালটেও এই নিয়ম মানা হয়েছে।
পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে কারা ভোট দিতে পারবেন?
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ ও গণভোটকে সামনে রেখে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিজ এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি কর্মচারী এবং আইনি হেফাজতে থাকা ভোটাররা।
ইতোমধ্যে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে বসবাসকারী ভোটার সংখ্যা ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪১ জন।


