ভোটে বাধা দিলে সে ‘শেখ হাসিনা হয়ে যাবে’—বগুড়ায় ড. আসিফ নজরুল

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সবার ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল (Asif Nazrul)। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়া জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “আমরা অসাধারণ একটি নির্বাচন করতে চাই। যাকে খুশি ভোট দেবো, তবে অন্যকে ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেবো না। আর কেউ যদি বাধা দেয়, তাহলে সে শেখ হাসিনা হয়ে যাবে। আমরা শেখ হাসিনা হতে চাই না।”

গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ বাড়াতে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসিফ নজরুল বর্তমান সরকারের প্রতি তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে ফ্যাসিসট আওয়ামী লীগ সরকার জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। একবার হয়েছে ‘রাতের ভোট’, আরেকবার ‘প্রতিদ্বন্দ্বীহীন ভোট’, আর একবার হয়েছে ‘ভুয়া ভোট’। তারা নিজেদেরকে জোর করে ইলেক্টেড ঘোষণা করে জনগণের উপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “যদি কেউ আজ ভোটে বাধা দেয়, তাহলে সে হবে শেখ হাসিনা। আমরা ভোটাধিকার রক্ষা করবো, কাউকে এর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে দেবো না।”

গণভোট প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা বলেন, “গণভোট আমাদের দেশের জন্য এক ঐতিহাসিক সুযোগ। যদি চান বৈষম্য, নিপীড়ন, দুর্নীতি দূর হোক—তাহলে হ্যাঁ ভোট দিন। আর অন্যায়ের পক্ষে থাকলে না ভোট দিন। আমরা দুর্নীতি, অনিয়ম, অবিচার, শোষণ দূর করতে চাই। এ দেশের মানুষ একটি নতুন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে চায়।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মাধ্যমে যে নতুন সময় এসেছে, তা আমাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে। এখন জনগণ ঠিক করবে তাদের সরকার কে হবে, কে যাবে সংসদে, কে বলবে তাদের কথা। আগে ঠিক করতেন শেখ হাসিনা। এখন ১৮ কোটি মানুষ ঠিক করবে।”

প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, “প্রথমবারের মতো এবার প্রবাসীরাও ভোট দিতে পারছেন। জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হচ্ছে। এটা এক বিশাল অগ্রগতি।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তিনটি লক্ষ্য ছিল— সংস্কার, গণহত্যাকারীদের বিচার এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন।

মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বগুড়ার অধ্যক্ষ এসএম প্রকৌশলী ইমদাদুল হক। উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান (Deputy Commissioner Toufiqur Rahman), জেলা পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন (SP Shahadat Hossain), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাউল করিমসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা এবং ছাত্র-জনতা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *