মনোনয়ন বাতিল, বিকল্পও নেই— কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের দুই আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থীশূন্যতা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থিতা যাচাই-বাছাইয়ের পর কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের দুটি আসনে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রার্থী নেই বিএনপি (BNP) জোটের। দলের মূল মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পরও সেখানে কোনো বিকল্প প্রার্থী না থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। যদিও প্রার্থিতা বাতিল হওয়া প্রার্থীরা উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এই দুটি আসন কার্যত প্রার্থীশূন্য।

এই নির্বাচনে বিএনপি মোট ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টি আসনে নিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে এবং বাকি আটটি আসন ছেড়ে দিয়েছে শরিক দলগুলোর জন্য। শরিকদের মধ্যে জমিয়তে উলামা (Jamiat Ulema) পেয়েছে চারটি আসন, আর নাগরিক ঐক্য (Nagorik Oikya), গণসংহতি আন্দোলন (Gonoshonghoti Andolon), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি (Revolutionary Workers Party) ও গণঅধিকার পরিষদ (Gonodhikar Parishad) একটি করে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

সব মিলিয়ে বিএনপি এবং শরিকরা মিলে ৩৩১টি মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিল। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বাছাইয়ে বিএনপির চারজন প্রার্থী বাদ পড়েন— কুমিল্লা-১০ আসনে আবদুল গফুর মিয়া (দ্বৈত নাগরিকত্ব), চট্টগ্রাম-২ আসনে সারোয়ার আলমগীর (ঋণখেলাপি), কুমিল্লা-৪ আসনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী (ঋণখেলাপি) এবং যশোর-৪ আসনে টি এস আইয়ুব (ঋণখেলাপি)।

তবে যশোর-৪ আসনে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মতিয়ার রহমান ফরাজী থাকায় সেখানে জোটের পক্ষ থেকে কোনো জটিলতা নেই। কুমিল্লা-১০ আসনে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন কিন্তু বাছাইয়ে বাদ পড়েন এবং পরবর্তীতে আপিলও করেননি। তবে এই আসনে গণঅধিকার পরিষদের রমিজ বিন আরিফ বৈধ প্রার্থী থাকায় জোটের প্রার্থী হিসাবে তিনিই শেষ পর্যন্ত জোটের প্রার্থী হতে পারেন।

সবচেয়ে সংকটময় অবস্থানে আছে কুমিল্লা-৪ ও চট্টগ্রাম-২ আসন। এই দুই আসনে কোনো বিকল্প প্রার্থী না থাকায় আপাতত বিএনপি ও তার জোট প্রার্থীশূন্য হয়ে পড়েছে। তবে মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা জানিয়েছেন, তারা উচ্চ আদালতে ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর (Jamaat-e-Islami) নেতৃত্বাধীন জোটে এমন কোনো প্রার্থীসংকট নেই। তারা ২৭৬টি আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছিল। বাছাইকালে কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদসহ আটজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও ইসির আপিল শুনানিতে তারা প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল ঋণখেলাপি, দ্বৈত নাগরিকত্ব ও মামলা-সংক্রান্ত জটিলতা।

জোটের শরিক এনসিপি (NCP) ২৭টি আসনে ছাড় পেয়েছে এবং মোট ৪৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। তাদের সিলেট-১ আসনের প্রার্থী এহতেশামুল হক বাছাইয়ে বাদ পড়লেও পরে আপিলে টিকে যান। এলডিপির একজন প্রার্থীও আপিলের মাধ্যমে বৈধতা পেয়েছেন।

অন্য শরিক দলগুলোর মধ্যে আমার বাংলাদেশ পার্টি (AB Party), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি), এবং নেজামে ইসলাম— এসব দলেও কিছু প্রার্থী প্রাথমিকভাবে বাদ পড়লেও তাদের বিকল্প প্রার্থী থাকায় প্রার্থীশূন্যতার সঙ্কট দেখা দেয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *