জামায়াতে ইসলামীর (Jamaat-e-Islami) নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটে আসন বণ্টনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বঞ্চিত অবস্থানে রয়েছে এনসিপি (NCP)। শুরুতে তারা অতিরিক্ত ১০টি আসনের দাবি করলেও, চূড়ান্ত বণ্টনে দলের জন্য নির্ধারিত আসনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আগের মতোই ৩০টিতে। অন্য শরিকদের কিছু ক্ষেত্রে আসন বাড়লেও এনসিপির কোনো দাবিই গৃহীত হয়নি,।
সোমবার রাতে জামায়াত জোট সূত্র জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে তারা ২৯৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এর মধ্যে জামায়াত পাবে ২২০, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৩, খেলাফত মজলিস ১৩, এলডিপি ৭, আমার বাংলাদেশ পার্টি (AB Party) ৪, নেজামে ইসলাম পার্টি ৩ এবং বিডিপি (BDP) ২টি আসনে প্রার্থী দেবে। তিনটি আসন রাখা হয়েছে উন্মুক্ত, যেখানে একাধিক শরিক দল প্রার্থী দেবে।
শরিকদের মধ্যে জামায়াত নিজেদের আসন চারটি উন্মুক্তসহ ১৮৩ থেকে বাড়িয়ে ২২০টিতে উন্নীত করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত ও খেলাফত মজলিসকে তিনটি করে এবং এবি পার্টি ও নেজামে ইসলাম পার্টিকে একটি করে বাড়তি আসন দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, এনসিপি অন্তত ১০টি আসনের জন্য চাপ তৈরি করেছিল। কিন্তু জোটের চূড়ান্ত আলোচনায় জামায়াত তাদের প্রতি নমনীয় হয়নি। বিষয়টি নিয়ে এনসিপির একাধিক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। যদিও এখন পর্যন্ত দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিবাদ জানায়নি।
জোট সূত্রে আরও জানা গেছে, এনসিপির দাবিগুলোর মধ্যে ছিল কিছু গুরুত্বপূর্ণ আসন, যেখানে তাদের সংগঠনিক ভিত্তি বেশ শক্তিশালী। তবে জামায়াত ও বৃহৎ শরিকরা নিজের প্রভাব ও মাঠের বাস্তবতা দেখিয়ে সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
এর আগে গত বুধবার জামায়াত ১৮৩টি, এনসিপি ৩০, বাংলাদেশ খেলাফত ২০, খেলাফত মজলিস ১০, এলডিপি ৭, এবি পার্টি ৩ এবং নেজামে ইসলাম ও বিডিপি ২টি করে আসনে প্রার্থী দেবে বলে জানানো হয়। তখন পাঁচটি উন্মুক্ত আসনসহ ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৫০টি আসন রাখা হয়েছিল, যা নিয়ে পরে টানাপোড়েন দেখা দেয়।
ইসলামী আন্দোলন এসব আসন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত শুক্রবার জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয়। এরপর নতুন করে সমঝোতা করে জামায়াত নিজের জন্য ৩৭টি আসন বাড়ায়, কিন্তু এনসিপির কোনো পরিবর্তন হয়নি।
জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, “১০ দলের আসন সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর একক প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হবে।”


