শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী সব শিশুর জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং ষাট থেকে পঁয়ষট্টি বছর বয়সী প্রবীণদের জন্যও একই ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি দিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকাল সোয়া ৩টায় দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ ময়দানের দক্ষিণ পাশে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে হেলিপ্যাড মাঠে আয়োজিত ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, যারা নিজেদের চিকিৎসার ব্যয় নিজেই বহন করতে সক্ষম, তাদের সে সুযোগ থাকবে; তবে যারা পারবেন না, তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব সরকার নেবে। আর এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়ন হবে জনগণের দেওয়া ভ্যাট, ট্যাক্স ও করের টাকায়। “আমরা এত টাকা কোথায় পাব?”—এই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “জনগণের টাকায়ই জনগণের সেবা হবে।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দিনাজপুরবাসীর সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে। দেশের অনেক পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন করা হলেও, প্রাচীন পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও দিনাজপুরকে এখনো সিটি করপোরেশন ঘোষণা করা হয়নি। “আমরা সরকার গঠন করলে দিনাজপুরকে সিটি করপোরেশন করা হবে”—এমন প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ভোটাধিকার নিয়ে দৃঢ় বক্তব্য দিয়ে তিনি বলেন, “আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোটও আমি দেব—এই দিন শেষ। এবার যদি কেউ আমার ভোট দিতে চায়, তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে না।”
জনসভায় তিনি অভিযোগ করেন, দিনাজপুরে এখনো গ্যাস সুবিধা নেই, যদিও এই জেলায় কয়লা পাওয়া গেছে এবং গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। “কিন্তু কোনও বৈজ্ঞানিক জরিপ চালানো হয়নি,”—জানান তিনি।
কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে আম, লিচু, টমেটোসহ নানান কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা গড়ে তোলা হবে। দিনাজপুরকে সিটি করপোরেশন করা হলে এবং এসব কারখানা স্থাপিত হলে কৃষক তাদের পণ্য সুবিধামতো সময়ে বিক্রি করে ন্যায্যমূল্য পাবেন। কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে। “উত্তরাঞ্চলকে কৃষির রাজধানী বানানো হবে,”—এমন লক্ষ্যের কথাও জানান তিনি।
চাঁ’\দা’\বা’\জি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দিনাজপুরে চাঁ’\দা’\বা’\জি হয় না।” তবে জনতার সাড়া পেয়ে নিজেই সংশোধন করে বলেন, “ফুটপাতেও চাঁ’\দা’\বা’\জি হয়, এটা লজ্জার। আমরা চাঁ’\দা’\বা’\জি করি না, করব না, কাউকে করতেও দেব না। দুর্নীতি করব না, করতেও দেব না। এই কথাগুলোর কারণেই আমরা বিপদে পড়েছি।”
নারী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে গুজব সম্পর্কে তিনি বলেন, “গুজব ছড়ানো হচ্ছে, আমরা ক্ষমতায় গেলে নারীদের ঘরে বন্দি করব। কিন্তু আমরা বলছি—নারীরা ঘরে, বাইরে, কর্মস্থলে কোথাও নিরাপদ নয়। আমরা সব জায়গাতেই নারীদের নিরাপদ রাখব।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নারী শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষার্থীরা নিজেদের নিরাপদ মনে করছে। ঢাবিতে গত ছয় মাসে চাঁ’\দা’\বা’\জি, মা’\দ’\ক, স’\ন্ত্রা’\স নেই।”
দেশব্যাপী উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, সরকার গঠন করলে প্রতিটি জেলায় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। দিনাজপুরের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ১ হাজার শয্যায় উন্নীত করা হবে, প্রয়োজনে বিশেষায়িত হাসপাতালও নির্মাণ হবে। পাশাপাশি, প্রতিটি জেলায় মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমরা কিছু দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি না, আমরা কাজ করে দেখাবো। পরিবর্তনের জন্য আসুন ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন। ভোটে স’\ন্ত্রা’\স, নৈরাজ্য, অনিয়ম ও ইঞ্জিনিয়ারিং করলে কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না।”
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান। বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম এবং জেলার ছয়টি আসনের প্রার্থী ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


