ভোলা-২ (দৌলতখান–বোরহানউদ্দিন) আসনের সংসদ নির্বাচনে দাঁ’\ড়ি’\পা’\ল্লা প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Jamaat-e-Islami Bangladesh) নেতা মুফতি মাওলানা ফজলুল করিম হঠাৎ করেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এই সিদ্ধান্তে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) নির্বাচনি প্রচারের প্রথম দিনেই দৌলতখানে উপজেলা জামায়াতের নির্বাচনি কার্যালয় ছিল বন্ধ। এর পর থেকেই গুঞ্জন ছড়ায়, ইসলামী ১০ দলীয় জোটের সমন্বয় না পাওয়ায় জামায়াত প্রার্থী নির্বাচনি লড়াই থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।
শুক্রবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দৌলতখান উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা আশরাফ উদ্দিন ফারুক। তিনি বলেন, “জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই আসনে ছা’\তা প্রতীকের এলডিপি প্রার্থী মোখফার উদ্দিন চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। যদিও এখনো তিনি আমাদের সহযোগিতা চাননি বা মাঠে ডাকেননি, তবে আমরা আমাদের সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে যাব।”
বোরহানউদ্দিন উপজেলা জামায়াতের আমির ও আসন পরিচালক মাওলানা মাকসুদুর রহমান নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, “কেন্দ্রীয় ১০ দলীয় ইসলামী জোটের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও বৃহত্তর ইসলাহী স্বার্থ বিবেচনায় আমরা নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি কোনো দুর্বলতা বা ভয়ের প্রকাশ নয়—বরং এটি উম্মাহর ঐক্য ও আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে একটি সচেতন পদক্ষেপ।”
তিনি আরও লেখেন, “আমরা জানি, এই সিদ্ধান্তে অনেকের মনে কষ্ট বা হতাশা আসতে পারে। তবে আমাদের বিশ্বাস, আল্লাহ যে পথে কল্যাণ রেখেছেন, সে পথেই অবিচল থাকা আমাদের কর্তব্য। আজ এক ধাপ পিছিয়ে এলেও আদর্শ ও ন্যায়ের সংগ্রাম ইনশাআল্লাহ থেমে থাকবে না।”
এই সিদ্ধান্তে হতাশ হলেও অনেক নেতাকর্মী একে সংগঠনের শৃঙ্খলা ও বৃহত্তর স্বার্থে গৃহীত বলে স্বীকার করছেন। তবে স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনী জোটের সমন্বয়হীনতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন এলাকায় প্রচারণা স্থগিত থাকায় জামায়াতের তৃণমূল পর্যায়ে কিছুটা ভাটা দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।


