জামায়াত বসন্তের কোকিলের মতো—কাজের সময় দেখা যায় না: পাপিয়া

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ‘বসন্তের কোকিল’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র সমালোচনা করেছেন অ্যাডভোকেট সৈয়দা আশিফা আশরাফী পাপিয়া (Advocate Syeda Ashifa Ashrafi Papia)। বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য পাপিয়া অভিযোগ করেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ সারাদেশে জামায়াতে ইসলাম কোনও মসজিদ, ঈদগাহ মাঠ, কবরস্থান কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখেনি। তার ভাষায়, জামায়াতে ইসলাম বসন্তের কোকিলের মতো—কাজের সময় তাদের দেখা যায় না, কথা বলার সময়েই কেবল তারা সামনে আসে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ (Chapainawabganj) সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের আব্দুস সামাদ কলেজ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত এই জনসভায় পাপিয়া আরও বলেন, বাংলাদেশকে তালেবান রাষ্ট্রে পরিণত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে রুখে দেওয়া হবে। তার দাবি, ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানেরা এখনো বাংলাদেশে বেঁচে আছেন এবং তারা কখনোই এই দেশকে তালেবানি রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেবেন না।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে বিকৃতভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করলে বাংলাদেশের মানুষ তা কখনোই বরদাস্ত করবে না। বাংলাদেশের নাগরিক ও তাদের সন্তানেরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়াবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামকে উদ্দেশ করে পাপিয়া বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াত নতুন কোনো শক্তি নয়। ১৯৪৮ সাল থেকেই এই ভূখণ্ডে, অর্থাৎ ভারতীয় উপমহাদেশে, জামায়াতে ইসলামকে মানুষ দেখে আসছে—যখন বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party)–র জন্মই হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামের ভূমিকা কী ছিল, তা বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে এবং জানে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির জন্মের পর ১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলাম (Jamaat-e-Islami) স্বৈরাচার এরশাদের জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোট করেছিল। পাপিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, যদি জাতীয় পার্টির ভোট করা নিষিদ্ধ হয়, তাহলে জামায়াতে ইসলামীর ভোট করাও নিষিদ্ধ হওয়া উচিত।

পাপিয়া অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলাম বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দিয়ে তারা ফাঁকা মাঠে গোল দিয়ে দ্বিতীয় হতে চায়। তার মতে, এ ধরনের রাজনীতি গণতন্ত্রের জন্য কখনোই কল্যাণকর নয়।

গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জামায়াতে ইসলাম প্রকাশ্যে সক্রিয় না থাকলেও তারা গোপনে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন পাপিয়া। তার ভাষায়, জামায়াতে ইসলাম একটি বর্ণচোরা ও গুপ্ত সংগঠন।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ পদ্মা নদীর বাঁধ নির্মাণ করেছেন এবং চর ও দিয়াড় এলাকার মানুষের জন্য সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন। এসব উন্নয়নই প্রমাণ করে কারা বাস্তবে কাজ করেছে আর কারা কেবল কথার রাজনীতি করে যাচ্ছে।

জনসভায় বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মী ছাড়াও প্রবীণ রাজনীতিবিদ, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *