শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা অবশেষে নির্বাচনের মাঠ ছাড়লেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ ময়দানে এক নির্বাচনী সমাবেশ শেষে তারেক রহমান তাকে নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা মেনে তিনি সম্মতি জানান এবং নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
সমাবেশের পর, সার্কিট হাউজের সামনেই এক ভিডিও বার্তায় সাবেক এমপি ও বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল এবং আমিনুল ইসলাম বাদশা একসাথে দাঁড়িয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। উভয়ের মধ্যে কোলাকুলি ও পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে এই রাজনৈতিক নাটকের পর্দা নামে।
এরপর থেকেই শেরপুর-৩ আসনের বিএনপি নেতাকর্মী ও ধানের শীষের সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিনের বিভক্তি অবসানের এই বার্তাকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। রাজনীতির মাঠে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিতও মিলছে।
আমিনুল ইসলাম বাদশা বলেন, “তারেক রহমান আমাকে ডেকে পাঠিয়ে বুলেটপ্রুফ গাড়িতে আলাদা করে আলাপ করেন। মঞ্চে কথা বলার সুযোগ না থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে আমাকে সম্মান দেখিয়ে নির্দেশ দেন ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার জন্য। আমি কোনো দ্বিধা না করে সেটি মেনে নিয়েছি। আমি একজন পরীক্ষিত বিএনপি কর্মী এবং দলের সিদ্ধান্তকেই প্রাধান্য দিই।”
তিনি আরও বলেন, “দলের জন্য কাজ করব। আর মাহমুদুল হক রুবেলকে আমি মুরুব্বি হিসেবে উপদেশ দেব, সেটিও যেন মানা হয়—এমন নির্দেশও এসেছে দলীয় প্রধানের কাছ থেকে।”
প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলও আমিনুল ইসলাম বাদশার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, “দলীয় প্রধানের নির্দেশনা মেনে আমিনুল ইসলাম বাদশা যে সম্মান দেখিয়েছেন, তাকে ভবিষ্যতেও মর্যাদার আসনে রাখা হবে। তার অনুসারীরা এখন ধানের শীষের পক্ষে একযোগে কাজ করবেন বলে আশা করছি।”
উল্লেখ্য, আমিনুল ইসলাম বাদশা ঝিনাইগাতীর একজন তৃণমূল রাজনীতিক। ইউপি সদস্য থেকে শুরু করে তিন দফা উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। শেরপুর-৩ আসন থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন এবং পরে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে শেষপর্যন্ত দলীয় নেতৃত্বের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি আবারো কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করলেন।

