রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবর্তে সহাবস্থান ও শান্তির রাজনীতি চায় বিএনপি—এমন মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, “আওয়ামী লীগের সাধারণ ও নিরপরাধ সমর্থকদের কোনো ভয় বা দুশ্চিন্তার কারণ নেই। বিএনপি তাদের পাশে থাকবে, এবং অন্যায়ের বিচার হবে কেবল দোষীদের ক্ষেত্রেই।”
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের রায়পুর ইউনিয়নের মোলানী বাজার, ছেফড়ীকুড়া, ফুটানি বাজার, তেঁতুলিয়া হরিবাসর, ভাউলারহাটসহ ১২টি স্থানে নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “গত ১৫ বছর এ দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি, সব ভো’\ট নিয়েছে হাসিনা ও তার প্রশাসনের লোকেরা। এবার দীর্ঘদিন পর সঠিক ভোট হবে বলে আমরা আশাবাদী—জনগণ যার তাকে ভো’\ট দেবে।”
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আপনাদের দুশ্চিন্তার কিছু নেই, বিএনপি আপনাদের পাশে আছে। রাজনৈতিক কারণে যারা হয়রানির শিকার হয়েছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাদের পুনর্বাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।”
নিজের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে তিনি বলেন, “আমি কখনো দু’\র্নী’\তির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। কাজ করে দেওয়ার নামে এক কাপ চাও খাইনি। নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে রাজনীতি করেছি, রাজনীতি করে সম্পদ গড়িনি। এটি আমার শেষ নির্বাচন—আপনারা আমাকে অসমাপ্ত কাজ শেষ করার সুযোগ দিন।”
২০১৪ সালের নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “সে সময় পুলিশ ও সরকার সন্ত্রাসের রাজত্ব তৈরি করেছিল। নির্বাচনের দিন তাদের গু’\লি’\তে এক প্রিজাইডিং অফিসার হ’\তা হয়েছিল, অথচ দোষ চাপানো হয়েছিল বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর। অনেকেই মামলার ভয়ে পা’\লি’\য়ে বেড়িয়েছেন। সারা দেশে ষাট লাখ মানুষের নামে মি’\থ্যা মামলা করা হয়েছিল। কিন্তু হাসিনা পা’\লি’\য়ে যাওয়ার পর আমরা মুক্তি পেয়েছি।”
জনসভায় নেতাকর্মীদের অনুরোধের জবাবে তিনি বলেন, “সারা দেশে ৬০ লাখ আসামি। সবার চাকরি বা ভাতা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে যোগ্যদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকবে।”
জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে জামায়াতের নেতারাও মন্ত্রী ছিলেন। তখন যদি কোনো দু’\র্নী’\তি হয়ে থাকে, তার দায় তারা এড়াতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল। তাঁর হ’ত্যার পর বেগম খালেদা জিয়া দলের হাল ধরেন। শেখ হাসিনা স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা করে জু’\লু’\ম-নি’\র্যা’\তন চালালেও, বেগম জিয়া কখনো মাথা নত করেননি বা দেশ ছেড়ে পালাননি। অনেক সহ্য করে আজকের এই পরিস্থিতি এসেছে। সুতরাং দেশের ভবিষ্যতের জন্য সবার দোয়া চাই এবং ধানের শীষে ভোট চাই।”


