রাজশাহীতে তারেক রহমান: “১২ তারিখ সতর্ক থাকলে ১৩ তারিখ থেকে শুরু হবে জনগণের দিন”

তারেক রহমান (Tarique Rahman) অভিযোগ করেছেন, একটি মহল আসন্ন নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, “১২ তারিখ যদি জনগণ সতর্ক থাকে, তবে ১৩ তারিখ থেকে শুরু হবে জনগণের দিন।”

দুপুর আড়াইটায় বক্তব্য শুরু করে ২টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত চলা বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “বিগত ১৬ বছরে আমরা ‘নি’\শি’\রা’\তের’ নির্বাচন, ‘আ’\ই-ডা’\মি’ নির্বাচন আর ‘গা’\য়েবি’ নির্বাচন দেখেছি। কিন্তু এবার আরেকটি মহল নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। সবার প্রতি আহ্বান—ভোটের আগের দিন সতর্ক থাকুন, ষড়যন্ত্র রুখে দিন।”

তারেক রহমান বলেন, “জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের লক্ষ্যে আমাদের আন্দোলন। আমরা ধর্মের ভিত্তিতে নয়, মানুষের ভিত্তিতে দেশ গড়তে চাই। সবচেয়ে বড় পরিচয়—বাংলাদেশি এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।”

তিনি আরও বলেন, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত নিরপেক্ষ তদন্ত করা। বিএনপি সেই তদন্তে সহায়তা করবে, তবে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

রাজশাহীর উন্নয়ন পরিকল্পনা

২২ বছর পর রাজশাহী সফরে এসে তারেক রহমান তুলে ধরেন রাজশাহী অঞ্চলের অব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন ব্যর্থতা। তিনি বলেন, “এখানে শিক্ষিত বহু মানুষ কর্মসংস্থানের অভাবে ঘরে বসে আছেন। আইটি পার্ক আছে, কিন্তু কাজ নেই। বরেন্দ্র প্রকল্প বন্ধ হয়ে আছে—যেটা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চালু করেছিলেন, পরে খালেদা জিয়ার সময় আরও সম্প্রসারিত হয়েছিল।”

তিনি প্রতিশ্রুতি দেন—বরেন্দ্র প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করা হবে, রাজশাহী অঞ্চলের জন্য পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা কৃষি, সেচ ও পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি

তিনি জানান, বিএনপি সরকার গঠন করলে রাজশাহী আইটি পার্ক সচল করা, ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপন, নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড চালু, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড ও ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, “রাজশাহীতে বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তুলতে চাই, যাতে মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে না গিয়ে দেশেই চিকিৎসা নিতে পারেন। এতে বৈদেশিক মুদ্রাও দেশেই থাকবে।”

মেগা প্রকল্প বনাম মেগা দুর্নীতির অভিযোগ

তারেক রহমান বলেন, “গত ১৬-১৭ বছরে সরকার মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য রাস্তা, হাসপাতাল, শিক্ষক, ডাক্তার—কিছুই সঠিকভাবে হয়নি। গণতন্ত্র না থাকলে এসব প্রকল্প কেবল দুর্নীতির মাধ্যম হয়। কিন্তু গণতন্ত্র থাকলে জবাবদিহিমূলক শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।”

প্রার্থীদের পরিচিতি ও জনগণের দায়িত্ব

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ধানের শীষের ১৩ জন সংসদ সদস্য প্রার্থীকে মঞ্চে তুলে পরিচয় করিয়ে দেন। বলেন, “১২ তারিখ পর্যন্ত আপনাদের কাজ এদের দেখে রাখা, ১৩ তারিখ থেকে এরা আপনাদেরকে দেখে রাখবে।”

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ, সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন। সভায় নাটোর, রাজশাহী, ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে হাজারো নেতাকর্মী অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *