গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের আহ্বান ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের

দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংসদ সদস্যদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রবীণ রাজনীতিক ও সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন (Khandaker Mosharraf Hossain)।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad)-এর প্রথম অধিবেশনে স্পিকারের আসনে সভাপতিত্ব করতে গিয়ে তিনি সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে এই আহ্বান জানান। অধিবেশনের সূচনালগ্নে দেওয়া তার বক্তব্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের স্বাগত ও অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে এই সংসদের মাধ্যমে।

তিনি উল্লেখ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত এই নতুন সংসদ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট নিয়েই সংসদ সদস্যরা সংসদে এসেছেন—এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে তাদের ওপর বড় দায়িত্ব ন্যস্ত রয়েছে।

ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, “সব সদস্যের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের নবযাত্রাকে আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ করবে।” একই সঙ্গে তিনি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সাবেক এই মন্ত্রী ত্রয়োদশ সংসদের ঐতিহাসিক প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার সুযোগ দেওয়ায় সংসদ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সংসদের এই যাত্রা শুধু একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং গণতন্ত্রকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

বক্তৃতার শুরুতেই তিনি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদ, ভাষা আন্দোলনের শহীদ এবং দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামে জীবন উৎসর্গকারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পাশাপাশি তিনি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদেরও স্মরণ করেন এবং বলেন, “তাদের ত্যাগ জাতিকে মনে করিয়ে দেয়—স্বাধীনতা রক্ষা করতে হলে অবিরাম অঙ্গীকারের প্রয়োজন।”

সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই নির্বাচন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘মাইলফলক’। অনেক বছর পর নাগরিকরা স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকার গঠন করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party)-কে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান (Tarique Rahman)-কে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো সংসদে বিরোধী দলের দায়িত্ব গ্রহণ করায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)-কেও অভিনন্দন জানান তিনি।

তার বক্তব্যে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (Ziaur Rahman)-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁকে স্বাধীনতার ঘোষক ও দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।

এ সময় তিনি সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও স্মরণ করেন। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও কারাবরণের মধ্যেও গণতন্ত্রের পক্ষে তার সংগ্রাম এবং দেশে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনে তার ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, নতুন সংসদের দায়িত্ব হবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিচার নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আরও শক্তিশালী করা এবং মুক্তিযুদ্ধের নিরপেক্ষ ইতিহাস সংরক্ষণ করা। একই সঙ্গে একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের জন্য কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “ত্রয়োদশ সংসদ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং দেশের অগ্রযাত্রায় গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে।”

বক্তৃতার শেষদিকে তিনি বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা আজ শুরু হলো। আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাব।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *