ভোটাধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি (BNP) চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman)। তিনি বলেছেন, ভোটের অধিকার হরণ এখনো শেষ হয়নি, তাই ভোটের দিন সবাইকে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে একযোগে কেন্দ্রে গিয়ে ব্যালট বক্স পাহারা দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নওগাঁর এটিম মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ ও জয়পুরহাট জেলার দলীয় নেতাকর্মী ও ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা।
তারেক রহমান বলেন, “১২ তারিখে যে ভোট দিতে যাচ্ছেন, সেই ভোট একদিন এ দেশের মানুষের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। সেই অধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়েছে, বহু মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “একটি পক্ষ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। কিন্তু আরেকটি পক্ষ এখনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারা কখনোই আন্দোলনে ছিল না, মাঠে দেখা যায়নি, কিন্তু ক্ষমতার ভাগে সবসময়ই থেকেছে।”
ভোটের দিন করণীয় নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা
তারেক রহমান বলেন, “ভোটের দিন সবাই তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে একসঙ্গে কেন্দ্রে যাবেন। মুসলমানরা জামাতে নামাজ আদায় করবেন, আর অন্য ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গেও নিয়ে কেন্দ্রে যাবেন। সকাল ৭টায় ভোটকেন্দ্র খুলবে, ঠিক সেই মুহূর্তেই ভোট দেওয়া শুরু করতে হবে।”
তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে বলেন, “সেসময় খালি ব্যালট বক্স দেখিয়ে পরে তা ভরে ফেলা হয়েছিল। এবার এমন কিছু যেন না ঘটে, সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।”
তারেক রহমান বলেন, “অনেক সময় দেখা যায়, ভোটকেন্দ্রের বাইরে দীর্ঘ লাইন আছে, কিন্তু লাইন নড়ে না। তখন বুঝতে হবে ভেতরে কিছু একটা হচ্ছে—হয়তো আগেই সিল মারা শুরু হয়েছে।”
এই নির্বাচন শুধু নির্বাচন নয়, অধিকার রক্ষার লড়াই
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “এই নির্বাচন কেবল একটি সরকার গঠনের নির্বাচন নয়। এটি বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াই। সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, চোখ-কান খোলা রাখতে হবে।”
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি নওগাঁ ও জয়পুরহাট জেলার ধানের শীষ প্রতীকের আটজন প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন। সমাপ্তির পরপরই তিনি বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন, যেখানে রাতেই আলতাফুন্নেসা মাঠে আরেকটি নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।


