নারীরা কখনও জামায়াতে ইসলামীর প্রধান হতে পারবেন না: ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কোনো নারী কখনও তার দলের আমির হতে পারবেন না। তার ভাষায়, আল্লাহ নারীদের ‘সেভাবে’ সৃষ্টি করেননি এবং এটা ‘পরিবর্তনযোগ্য নয়’।

সম্প্রতি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন জামায়াত আমির।

ঢাকায় জামায়াত আমিরের বাসায় সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন। প্রায় ২৬ মিনিটের সাক্ষাৎকারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশে জামায়াতের নারী নীতি নিয়ে নানা প্রশ্ন করেন আল জাজিরার সাংবাদিক।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত কতজন নারীকে মনোনয়ন দিয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমির বলেন, ‘ না, একজনও না। তবে আমরা এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা এরইমধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়েছি, যেখানে আমাদের বোনেরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং সফল হয়েছেন। ভবিষ্যতে আমরা সংসদ নির্বাচনের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

আল জাজিরার সাংবাদিক এ সময় জানতে চান এই নির্বাচনে একজন নারী প্রার্থীও কেন নেই, উত্তরে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনি দেখবেন, অন্য কোনো দলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী প্রার্থী নেই। কারণ এটা বাংলাদেশের একটি সাংস্কৃতিক বাস্তবতা। আমরা এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

একদিন কোনো নারী জামায়াতের আমির হতে পারেন কিনা, সেই প্রশ্ন রাখা হয় শফিকুর রহমানের কাছে। জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা সম্ভব নয়। এটা সম্ভব নয় কারণ আল্লাহ প্রত্যেককে নিজস্ব সত্তা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। কারণ আপনি কখনো সন্তান ধারণ করতে পারবেন না। আমরা কখনও শিশুকে বুকের দুধ পান করাতে পারব না। এটা সৃষ্টিকর্তার দেয়া পার্থক্য। নারী ও পুরুষের মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে, যা আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। সেগুলো আমরা পরিবর্তন করতে পারি না।’

সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে সাংবাদিক জামায়াতের এই অবস্থানের বিরোধিতা করে বলেন, ‘চমৎকার। কেউ যদি মা হন, সন্তান লালন-পালন করেন, তবু কেন তিনি জামায়াতের মত একটি সংগঠনের প্রধান হতে পারবেন না, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘এটা পরিবর্তনযোগ্য নয়। তাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। কিছু ক্ষেত্রে তারা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। শারীরিক অসুবিধা থাকে, আপনি জানেন।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘বুঝছেন না কেন? একজন মা যখন সন্তান জন্ম দেন, তখন কীভাবে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন? এটা কি সম্ভব? কখনোই না। আল্লাহ সবকিছু সবচেয়ে ভালো জানেন।’

সাংবাদিক যখন পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, জামায়াত আমির এমন কথা বলছেন এমন এক দেশে, যেখানে গত তিন দশকে নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

শফিকুর রহমান তখন বলেন, ‘আমরা তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করিনি। আগেই বলেছি, আমরা অসম্মান করি না। কিন্তু আপনি যদি বিশ্বকে দেখেন, যেসব দেশ উন্নত হয়েছে, সেখানে কতজন নারী সামনে এসেছেন?’

এসময় বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর অতীতের রাজনৈতিক জোটের বিষয়ে প্রশ্ন করেন আল জাজিরার সাংবাদিক, যেই সময় বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

শ্রীনিবাসন প্রশ্ন করেন, ‘আপনি বলছেন, নারীরা একটি সংগঠনের প্রধান হতে পারবেন না, অথচ তারা ১৬–১৭ কোটি মানুষের দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন? তাহলে স্পষ্টতই নারীরা নেতৃত্ব দেয়ার সক্ষমতা রাখেন।’

এ প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির দাবি করেন, বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই নারী নেতৃত্বকে ‘বাস্তবসম্মত মনে করে না’ এবং এটাই ‘বিশ্বের বাস্তবতা।’ শফিকুর রহমান আরও দাবি করেন, নারী নেতা ছিলেন–এমন দেশের সংখ্যা অল্প।

খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভালো কাজ করেছেন কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, ‘এটা আমাদের সিদ্ধান্ত নয়। এটা তাদের দলের সিদ্ধান্ত। আমাদের দলীয় সিদ্ধান্তকে সম্মান করা উচিত। আমরা কারও ওপর কিছু চাপিয়ে দিতে পারি না।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *