জোট ক্ষমতায় এলে সরকারে থেকে ইশতেহার বাস্তবায়ন করব: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) (National Citizens’ Party – NCP) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম (Nahid Islam) বলেছেন, “১১ দলীয় জোট যদি সরকার গঠন করে, তাহলে আমরা সরকারের অংশ হয়ে আমাদের ইশতেহার বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।” শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে দলীয় ইশতেহার ঘোষণাকালে এসব কথা বলেন তিনি।

ইশতেহারে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৩৬টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানান নাহিদ ইসলাম। বলেন, “আমি সরকারের মধ্যে থাকার সময় অনেক কিছু অর্জন করেছি, আবার অনেক কিছুতে ব্যর্থ হয়েছি। এবার চেষ্টা থাকবে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জনগণের দাবি বাস্তবায়নের।” এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও বিশিষ্ট নাগরিকরা।

**নতুন বন্দোবস্ত ও জামায়াতের সঙ্গে জোট

ইশতেহার ঘোষণার আগে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে প্রশ্ন ওঠে। এ প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, “জামায়াতের সঙ্গে জোট নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। আমাদের ‘নতুন বন্দোবস্ত’-এর আকাঙ্ক্ষা নিয়ে প্রশ্ন এসেছে। আমরা সেই দাবিতেই অনড় আছি। শুরু থেকেই সাংবিধানিক পরিবর্তনের কথা বলেছি। যদিও পরে কিছু সংস্কারের মধ্য দিয়ে আপস করতে হয়েছে, কিন্তু আমাদের দীর্ঘমেয়াদী লড়াই চলবে।”

তিনি বলেন, “অনেকে প্রশ্ন করেছেন, পুরোনো দলের সঙ্গে জোট করে আমরা কি আমাদের লক্ষ্য থেকে সরে এসেছি? না, এই জোট মূলত একটি নির্বাচনী ঐক্য। আমরা যেসব ন্যূনতম রাজনৈতিক জায়গায় ঐকমত্যে পৌঁছেছি, তার ভিত্তিতেই এই জোট। আমাদের ইশতেহারটি স্বতন্ত্রভাবে ঘোষণা করেছি—এটা সেই নীতির প্রতিফলন।”

‘জোটে ভিন্ন মত, সরকারে থাকবে সমন্বিত অবস্থান’

নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, “জোটে ভিন্ন ভিন্ন আদর্শের দল থাকলেও কোনো নির্দিষ্ট দলের আদর্শ বা নীতি সরকারে প্রভাব ফেলবে না। বরং আমরা সম্মিলিতভাবে সংস্কার, বিচার, দুর্নীতি ও আধিপত্যবিরোধী কর্মসূচিতে ঐকমত্যে পৌঁছে কাজ করব।”

তিনি আরও বলেন, “এই ইশতেহার বিচ্ছিন্নভাবে তৈরি হয়নি। জাতীয় নাগরিক কমিটি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, এনসিপি এবং জুলাই পদযাত্রার মাধ্যমে দেশের মানুষের মতামত, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বিভিন্ন সেমিনার থেকে পাওয়া প্রস্তাবের ভিত্তিতেই এটি তৈরি হয়েছে। তরুণ প্রজন্ম ও মর্যাদার প্রশ্নে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি।”

নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে দীর্ঘ মেয়াদে রাজনৈতিক সংস্কার ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের দাবির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার ইঙ্গিত দেন। ১১ দলীয় জোট নির্বাচনী স্বার্থে গঠিত হলেও, ভবিষ্যৎ সরকারে তা যেন জনস্বার্থে রূপ নেয়, সেই প্রত্যাশা তুলে ধরেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *