ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হতেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ (Bangladesh National Parliament)-এ। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরু হওয়ার মুহূর্তেই বিরোধী দলীয় সদস্যদের তীব্র প্রতিবাদ ও স্লোগানে সংসদ কক্ষের পরিবেশ অস্থির হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সম্মিলিতভাবে ওয়াকআউট করে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।
ভাষণ শুরু হওয়ার পরপরই বিরোধী দলীয় বেঞ্চ থেকে জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami) এবং এনসিপি (NCP)-এর সংসদ সদস্যরা উচ্চস্বরে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। তাদের অভিযোগ ও স্লোগানে মুহূর্তের মধ্যেই সংসদ কক্ষের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ সময় কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ (Hasnat Abdullah) সরাসরি ‘গেট আউট চুপ্পু’ এবং ‘জুলাইয়ের গাদ্দারকে চাই না’—এমন স্লোগান দিতে থাকেন। তার এই স্লোগান সংসদ কক্ষে থাকা অন্যান্য বিরোধী সদস্যদের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
শুধু তিনি নন, দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম (Nahid Islam)ও রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে প্রতিবাদে অংশ নেন। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পুরো সংসদ কক্ষে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা অধিবেশনের স্বাভাবিক পরিবেশকে পুরোপুরি ব্যাহত করে।
পরিস্থিতি আর নিয়ন্ত্রণে না থাকায় একপর্যায়ে বিরোধী দলীয় নেতা ও ডা. শফিকুর রহমান (Dr. Shafiqur Rahman)-এর নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা সম্মিলিতভাবে সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালেই তাদের এই ওয়াকআউট রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিরোধী দলের সদস্যরা বেরিয়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রপতি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তাঁর ভাষণ অব্যাহত রাখেন।
এদিকে সংসদ থেকে ওয়াকআউটের কিছুক্ষণের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেন এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি ইংরেজিতে মাত্র তিনটি শব্দ লিখে একটি পোস্ট দেন—“Get out Chuppu”।
পোস্টটি প্রকাশের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। মাত্র ৩৮ মিনিটের মধ্যেই পোস্টটিতে ২ লাখ ১২ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া জমা পড়ে এবং প্রায় ১৭ হাজার মন্তব্য দেখা যায়। রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে করা এই সংক্ষিপ্ত পোস্টটি দ্রুতই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।


