তারেক রহমানের সহায়তাপ্রাপ্ত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী গফুর মল্লিকের বাড়িতে ভাঙচুর–লুট, একজন গ্রেপ্তার

রাজবাড়ী (Rajbari) সদর উপজেলার পাচুরিয়া ইউনিয়নের খোলাবাড়িয়া গ্রামে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সহায়তাপ্রাপ্ত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী গফুর মল্লিকের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ একজন নারীকে গ্রেপ্তার করেছে।

ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ছয়টার দিকে। ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, পূর্বের একটি ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায় গফুর মল্লিকের পরিবারের তিনটি বসতবাড়িতে।

প্রথমে হামলাকারীরা গফুরের বড় ভাই হানিফ মল্লিকের টিনশেড ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং সাব–বাক্স ভেঙে নিয়ে যায় নগদ ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও প্রায় ২ ভরি ৭ আনা স্বর্ণালঙ্কার, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা। একই সঙ্গে একটি জিক্সার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে প্রায় ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে।

এরপর হামলা চলে মেজো ভাই কুদ্দুস মল্লিকের বাড়িতে। জানালার থাই গ্লাস ও একটি স্ট্যান্ড ফ্যান ভাঙচুর করা হয়।

সবশেষে হামলাকারীরা প্রবেশ করে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী গফুর মল্লিকের বসতঘরে। সেখানে টিনের বেড়া কুপিয়ে ভাঙচুর চালানো হয় এবং ঘর থেকে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। পরিবারটির দাবি, তিনটি বসতঘর মিলিয়ে লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার আগে পরিবারের সদস্যদের হুত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে যায়।

ঘটনার পর গফুর মল্লিকের পালিত ছেলে বাতেন মল্লিক রাজবাড়ী সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে খোলাবাড়িয়া গ্রামের নান্নু শেখ, সাদ্দাম শেখ ও রেজাউল ইসলাম নজিরসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার জিয়াউর রহমান জানান, “অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।”

প্রসঙ্গত, ৭৫ বছর বয়সী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী গফুর মল্লিক দীর্ঘদিন ধরে বাসে-ট্রেনে নারকেলের নাড়ু বিক্রি করে জীবিকা চালিয়ে আসছিলেন। তাঁর এই সংগ্রামী জীবনের প্রতি সম্মান জানিয়ে ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তাঁকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

এই নির্মম হামলার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *