জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশ্যে ইঙ্গিত করে পীর সাহেব চরমোনাই (Pir Saheb Charmonai), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, “জামায়াত আমাদের ব্য’\বহার করতে চেয়েছিল। কিন্তু শরিয়াহ বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার না থাকায় আমরা কোনো জোটে যাইনি।” তিনি বলেন, ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঝুঁকি নিয়েই তারা এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তবে একা নন—তাঁর সাথে আছেন আল্লাহ ও দেশপ্রেমিক জনগণ।
সোমবার বিকেল ৪টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নবীনগর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন চরমোনাই পীর।
তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছর যারা দেশ শাসন করেছে, তারা বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এখন উন্নয়নের নতুন কোনো পথ দেখানোর ক্ষমতা তাদের নেই। ভুয়া আশ্বাস দিয়ে আর জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।”
চরমোনাই পীর দাবি করেন, ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে শাসনব্যবস্থা কায়েম করলে তা হতে পারে খলিফা ওমর (রা.)-এর মতো আদর্শ শাসন। “সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার—এই তিনটি বাস্তবায়নের মধ্যেই ইসলামের প্রকৃত রূপ নিহিত,” বলেন তিনি।
বিএনপি ও জামায়াতের প্রতি সরাসরি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “বর্তমানে যারা ওই জোটগুলো থেকে নির্বাচনে এসেছে, তারা কেউই ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করতে চায় না। শুধু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-ই ইসলামকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে এগোচ্ছে।”
জনসভায় নবীনগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে চরমোনাই পীর বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নজরুল ইসলাম নজুকে ভোট দিন এবং ইসলামী শরিয়াহ বাস্তবায়নের পথে ভূমিকা রাখুন।”
তিনি আরও বলেন, “মাঠে যারা নামেনি, তাদের ভুলে গেলে চলবে না। প্রার্থী বড় কথা নয়, বড় কথা হলো প্রতীক। যারা আমাদের তুচ্ছ করছে, তাদের জবাব দিতে হবে ভো’\টের মাধ্যমেই।”
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন নবীনগর উপজেলার সভাপতি জসিম উদ্দিন সরকার। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম নজু (Nazrul Islam Nozu)। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহবুবুর রহমান।
জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা গাজী নিয়াজুল কারীম, আইম্ম পরিষদের সভাপতি মুফতি আবদুল্লাহ আল কাসেমী, জিয়াউল হক সরকার, হাবিবুর রহমান মিজবাহ, আহমদ আব্দুল কাইয়ুম ও মাওলানা মেহেদি হাসান প্রমুখ।
চরমোনাই পীর সভার এক পর্যায়ে নজরুল ইসলাম নজুর হাতে দলীয় প্রতীক ‘হাত পাখা’ তুলে দেন। তিনি বলেন, “শান্তির প্রতীক হাত পাখায় ভো’\ট দিন—এটাই আমাদের বার্তা।”
জনসভায় ইসলামী আন্দোলনের জেলা ও উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দও বক্তব্য দেন এবং দলের একক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ইসলাম ভিত্তিক শাসনের পক্ষে একাত্মতা প্রকাশ করেন।


