বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারনে অন্তত ১৯ আসনে সুযোগে দেখছে জামায়াত জোট

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP)-এর বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে অন্তত ১৯টি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনগুলোর অধিকাংশই বিএনপির জন্য দলগতভাবে জয়ের উপযুক্ত ছিল, কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিদ্রোহী প্রার্থীদের অংশগ্রহণে ভোট বিভাজনের সুযোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami)-সমর্থিত জোট।

নির্বাচনি ময়দানের বর্তমান চিত্র বিশ্লেষণ করে বোঝা যাচ্ছে, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, জয়পুরহাট, পাবনা, ঝিনাইদহ, বাগেরহাট, বরিশাল, পিরোজপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, শরীয়তপুর, মৌলভীবাজার এবং চাঁদপুর জেলার অন্তত ১৯টি আসনে এখন হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। শুধুমাত্র এই ১৯ টি আসনই নয় – এর বাইরেও অন্তত ২৮ টি আসনে মুখোমুখি বিনএনপি জোট প্রার্থী আর বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী। তবে এই আসন গুলিতে অন্য প্রার্থীদের অবস্থা তেমন ভালো নয় বলে এগুলিতে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি জোট প্রার্থীর সাথে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর।

বিশেষ করে বাগেরহাট, ঢাকা ও ময়মনসিংহ জেলার প্রায় ৫টি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে জামায়াত জোটের জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটাররা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, বিএনপির মূল ও বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ায় জামায়াত জোট তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে উঠে এসেছে।

এখনকার পরিস্থিতিতে এই আসনগুলোকে বলা হচ্ছে ‘টস আপ’, যেখানে বিজয়ের সম্ভাবনা তিনটি পক্ষ—বিএনপি, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এবং জামায়াত জোটের মধ্যে প্রায় সমান। যা ফলাফলকে অত্যন্ত অনিশ্চিত করে তুলেছে। সামান্য ভোটের ব্যবধানই এখানকার ফল পুরোপুরি উল্টে দিতে পারে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্ব ও একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রার্থীতা নির্বাচনের কৌশলগত চিত্রকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। আর এর সবচেয়ে বড় সুবিধা নিতে পারে জামায়াত জোট, যারা এই বিভাজনের সুযোগে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করছে।

বিশ্লেষকদের আরও আশঙ্কা, যদি শেষ মুহূর্তে বিদ্রোহীদের সরিয়ে নেওয়ার মতো কোনো সমঝোতায় না পৌঁছানো যায়, তাহলে এই ১৯টি আসনের এক বড় অংশে জামায়াত জোট অপ্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারে।

সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, এই আসনগুলোর ভাগ্য নির্ধারণ করবে তিনটি বিষয়—দলীয় কৌশল, ভোটার উপস্থিতি এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের শেষমুহূর্তের অবস্থান। এবং এটাই জামায়াত জোটের জন্য হয়ে উঠেছে একটি অপ্রত্যাশিত সুযোগ, যা মূলত বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভক্তি থেকেই জন্ম নিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *