বিএনপি (BNP) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সম্ভাব্য জাতীয় সরকারে জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami) অংশ নেবে না। ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি সাময়িকী The Week-এ দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি নির্বাচন, জোট রাজনীতি, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন এবং ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশের জনগণ কার্যত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। এমন একটি প্রজন্ম গড়ে উঠেছে যারা কখনো ভোট দেয়নি। এই প্রেক্ষাপটে জনগণের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রবল আকাঙ্ক্ষা রয়েছে এবং এবারের নির্বাচনে ভালো উপস্থিতি হবে বলে তিনি আশাবাদী। নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীল ভূমিকা নিচ্ছে এবং সরকারের দিক থেকেও আন্তরিকতা দেখা যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
জোট প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫ বছরে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে চলা আন্দোলনে বিএনপি বাম ও ডান উভয় মতাদর্শের দলগুলোর সঙ্গে মিলে একটি বৃহৎ জোট গঠন করেছিল। এই আন্দোলনের অংশীদার যারা ছিলেন, সরকার গঠন হলে তারাই থাকবেন। তবে হ’\ত্যা, খু’\ন, এবং ধর্মীয় বিতর্ক নিয়ে নানা সময়ে আলোচিত জামায়াত বিএনপির ভবিষ্যৎ সরকারে স্থান পাবে না বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
ছাত্রদের গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) (National Citizen Party) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জোটের চেষ্টা হয়েছিল, তবে এনসিপি অতিরিক্ত আসনের দাবি করেছিল যা গ্রহণযোগ্য ছিল না। তাদের নিজস্ব প্রতীক নিয়ে জয়ী হওয়ার সক্ষমতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না—এই প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, শেখ হাসিনার নির্দেশে দলটি নির্বাচন থেকে দূরে থাকছে। তবে কিছু স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশ নিতে পারেন বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। তার মতে, শেখ হাসিনা দলের ভেতরে বিকল্প নেতৃত্ব গড়ে উঠতে দেননি, ফলে দলটি নতুন ভাবমূর্তি নিয়ে ফিরে আসার সুযোগ হারিয়েছে।
তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর প্রত্যাবর্তন নিয়ে প্রশ্নে তিনি জানান, তরুণদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। তারেক রহমান মানবিক উন্নয়ন, কৃষকের কল্যাণ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য এবং প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ সীমিত করার কথা বলেছেন।
বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, তিনটি বিষয়ে জরুরি সমাধান দরকার—পানি বণ্টন, সীমান্তে নি’\হত ঘটনা এবং বাণিজ্যিক ভারসাম্য। এসব বিষয়ে পারস্পরিক আস্থা ও আত্মমর্যাদার ভিত্তিতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। সম্প্রতি বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরকে ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখেন তিনি।
শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক ব্যাহত হবে কি না—এমন প্রশ্নে ফখরুল বলেন, শেখ হাসিনা নিজেরই তৈরি করা কেন্দ্রীভূত শাসনের কারণে রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে প্রাসঙ্গিক থাকবেন না। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক তার অনুপস্থিতিতেও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব ও উচিত।
সবশেষে, ১৯৭১ সালের অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, পাকিস্তানকে সে সময়ের গণহ’\ত্যা’র জন্য ক্ষমা চাইতেই হবে। একইসঙ্গে আঞ্চলিক উন্নয়নের জন্য প্রতিবেশী সব দেশের সঙ্গে একত্রে কাজ করাই সঠিক পথ।


