একই দিনে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (Islami Andolon Bangladesh)। আগামীকাল বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) পৃথক অনুষ্ঠানে দুটি দলই তাদের ইশতেহার তুলে ধরবে।
জামায়াতের ইশতেহার ঘোষণার কথা ছিল আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি)। তবে শবে বরাত, পত্রিকা ছুটির দিন ও দলীয় প্রধানের কর্মসূচির কারণে তারা একদিন পিছিয়ে ইশতেহার প্রকাশ করছে বুধবার। দলটির নির্বাহী পরিষদ ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মোবারক হোসাইন জানান, অনুষ্ঠানটি বিকেলে রাজধানীর হোটেল শেরাটনে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, জামায়াতের ইশতেহার অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সংস্থা ও কূটনীতিকদের উপস্থিতির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইশতেহারে ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ ও ‘জুলাই সনদ’-এর আলোকে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে।
অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, তারা ৪ ফেব্রুয়ারি ইশতেহার ঘোষণা করবে। বিকেল ৩টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (Syed Muhammad Rezaul Karim) এই ইশতেহার উপস্থাপন করবেন।
তাদের ইশতেহারে ‘জনপ্রত্যাশার বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য গ্রহণ করা হয়েছে। শরিয়াহ প্রাধান্য, ‘জুলাই সনদের’ প্রতি দায়বদ্ধতা, তারুণ্যের কর্মসংস্থান, সুশাসন, নাগরিক অধিকার ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা আনার প্রতিশ্রুতি থাকবে। এছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও সম্মানভিত্তিক বৈদেশিক নীতিও থাকবে গুরুত্বের শীর্ষে।
এক সময় জামায়াতের নেতৃত্বে গঠিত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে থাকা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গত ১৬ জানুয়ারি সেই জোট থেকে বেরিয়ে যায়। আসন সমঝোতা ও নীতিগত অমিল এই বিচ্ছেদের পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে আসে। তবে এর আগে জামায়াতের সঙ্গে কওমিধারার বিভিন্ন দল নিয়ে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ ছিল ইসলামী আন্দোলন।
জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের পাশাপাশি ইশতেহার ঘোষণার এই সমাপতন রাজনৈতিক মহলে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে ‘জুলাই সনদ’ পরবর্তী ইসলামপন্থী রাজনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে দুটি দলই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে যাচ্ছে— যা কৌশলগত নতুন অবস্থান ও বিভাজনের দিকও স্পষ্ট করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


