কুমিল্লা ৪ দেবিদ্বার আসনের রাজনৈতিক মাঠে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী জসীম উদ্দিনকে ট্রাক প্রতীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির। বৃহস্পতিবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই আহ্বান জানান এবং একই সঙ্গে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, শ্রমিক দলসহ সর্বস্তরের জনগণকে ট্রাক প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
নাছির উদ্দিন নাছির তার পোস্টে উল্লেখ করেন, কুমিল্লা ৪ আসনে জামায়াত জোট মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন হাসনাত আবদুল্লাহ, যিনি জুলাই গণ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে উঠে আসা একজন তরুণ নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি বলেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভের চেয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে নির্বাচনে জয়ী হওয়াই একজন প্রকৃত রাজনৈতিক নেতার বৈশিষ্ট্য। তার ভাষায়, আশা করা যায় হাসনাত আবদুল্লাহ গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী জসীম উদ্দিনের সঙ্গে একটি শক্ত রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবেন এবং এই প্রতিযোগিতা গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করবে। পোস্টে তিনি দুই প্রার্থীর জন্যই শুভকামনা জানান।
নাছির উদ্দিন নাছির আরও লেখেন, কুমিল্লা ৪ আসনে ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার গণ অধিকার পরিষদ। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় দলের নেতা জসীম উদ্দিন জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। এই প্রেক্ষাপটে তিনি দেবিদ্বারের ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান, ট্রাক প্রতীকে ভোট দিয়ে জসীম উদ্দিনকে নির্বাচিত করে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের এই প্রকাশ্য সমর্থন কুমিল্লা ৪ আসনের নির্বাচনি সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ট্রাক প্রতীকের পক্ষে ভোটের মনোভাব তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেবিদ্বার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা তীব্র থাকলেও এবারের নির্বাচনকে ঘিরে ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলোর অবস্থান বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে, এই আসনে নির্বাচন কেবল ব্যক্তি বা দলের লড়াই নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ধারার প্রতিফলন। ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের অংশীদারদের মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক সমর্থন ভবিষ্যতের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন দৃষ্টি রাজনৈতিক মহলের।


