আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দীর্ঘদিন পর দেশের ১২ কোটির বেশি ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নতুন সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করবেন। এই নির্বাচন উপলক্ষে দৈনিক ইনকিলাব (Dainik Inqilab) ২৭ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫২টি নির্বাচনী আসন এবং দেশের ৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালনা করে এক মতামত জরিপ। এতে অংশগ্রহণ করেন মোট ৯৬৬৯ জন ভোটার, যার মধ্যে ৭৩৯১ জন পুরুষ (৭৬.৪৪%) এবং ২২৭৮ জন নারী (২৩.৫৫%)।
জরিপে বয়স ও পেশাভিত্তিক ভিন্নতা ছিল লক্ষণীয়। ১৮–৩০ বছর বয়সীদের সংখ্যা ছিল ৩৫৭২ জন (৩৬.৯৪%) এবং প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছেন ২৩২১ জন (২৪%)। পেশাভিত্তিকভাবে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শিক্ষার্থী ছিলেন সবচেয়ে বেশি—২৭৪০ জন (২৭.৯৬%)।
প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ে কে এগিয়ে?
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাকে দেখতে চান—এ প্রশ্নের উত্তরে ৯৬৬৯ জনের মধ্যে ৫৮৭০ জন (৬০.৭০%) জানিয়েছেন, তারা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman)–কে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান (Dr. Shafiqur Rahman)–কে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান ৩১৬৩ জন (৩২.৭২%)।
বাকি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ২০২ জন (২.০৮%) ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমকে, ১৫৮ জন (১.৬৩%) এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে এবং ৭৮ জন (.৮০%) জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি. এম. কাদেরকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চান। ২২৫ জন (২.৩২%) জানিয়েছেন, এদের কাউকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান না।
তারেক রহমান কেন প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন?
এই প্রশ্নে ১৯৮০ জন (২০.৪৭%) মনে করেন, তিনি দেশের সবচেয়ে বড় দল বিএনপির চেয়ারম্যান এবং দলটির জনপ্রিয়তা সর্বাধিক।
১৭৪৩ জন (১৮.০২%) তার পরিচ্ছন্ন এবং জনপ্রিয় রাজনীতির প্রতি আস্থা রেখেছেন।
৬৭৭ জন (৭%) মনে করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র হিসেবে তার ইমেজ ও ঐতিহ্য তাঁকে উপযুক্ত করে তোলে।
শফিকুর রহমানের পক্ষে মতামত
জামায়াতের আমিরকে যারা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চান, তাদের মধ্যে ১৬৫৮ জন (১৭.১৪%) মনে করেন, তিনি একজন সৎ ব্যক্তি—প্রধানমন্ত্রী হলে দুর্নীতি ও অনিয়ম দূর হবে।
৭৭৭ জন (৮.০৩%) মনে করেন, জনপ্রিয়তার কারণে তিনি প্রধানমন্ত্রিত্বের যোগ্য।
নাহিদ ইসলামের পক্ষে ২৪ জনের মত, যারা মনে করেন জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপযুক্ত।
বিশ্ববিদ্যালয়ে তরুণদের অভিমত: তারেক এগিয়ে, শফিকুর সমানে সমান
এই জরিপে অংশ নেয়া ৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২৩৪ জন ভোটারের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন জেনারেশন-জি ও প্রথমবারের ভোটার। এদের মধ্যে ৫৭৫ জন (৪৬.৫৯%) মনে করেন তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন, আর ৫২৪ জন (৪২.৪৬%) মনে করেন শফিকুর রহমান।
বিশ্ববিদ্যালয়ওয়ারি চিত্র:
– ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: তারেক–৯৫ জন, শফিকুর–৫৪ জন
– জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: তারেক–৯৭ জন, শফিকুর–৩৪ জন
– চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: তারেক–৭৯, শফিকুর–৭৫
– জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়: তারেক–৩৭, শফিকুর–২৩
– ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়: তারেক–৬৯, শফিকুর–৫৯
– খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়: শফিকুর–৮৪, তারেক–৬৯
– রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: শফিকুর–১১৫, তারেক–৫১
– বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: দুজনেই সমানে–৭৮ জন করে
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৯১ জন (৭২.২০%) এবারই প্রথমবার ভোট দেবেন। তবে ১০৭ জন (৮.৬৭%) জানিয়েছেন তারা ভোট দিতে যাবেন না।
বিশ্লেষণ: ভোটার মনের মানচিত্রে দুই শক্তিশালী প্রতিচ্ছবি
যদিও জরিপের ফলাফল একটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনী ভবিষ্যদ্বাণী নয়, তবে এটি স্পষ্টভাবে দেখায়—দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ঘিরে জনআস্থার ঘনত্ব কতটা প্রবল। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ ও মতামতে তারেক রহমানের গ্রহণযোগ্যতা যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, সেটি লক্ষ্য করার মতো।


