আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে তদারকি ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Ministry of Home Affairs) ‘জেলা ও উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটি’ সংশোধনপূর্বক পুনর্গঠন করে নতুন অফিস আদেশ জারি করেছে। রবিবার (১ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা-২ থেকে জারি করা আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। উপসচিব কে এম ইয়াসির আরাফাত স্বাক্ষরিত ওই আদেশে কমিটির গঠন, কার্যপরিধি ও সভা সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে গঠিত ‘জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটি’ সংশোধন করে পুনর্গঠন করা হলো। নতুন কাঠামো অনুযায়ী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন কমিটির সভাপতি। সদস্য হিসেবে থাকবেন পুলিশ সুপার, পুলিশ সুপার (ডিএসবি), ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (মেট্রোপলিটন জেলাসমূহে), সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের প্রতিনিধি (সীমান্তবর্তী ও উপকূলীয় জেলার ক্ষেত্রে)।
এছাড়া জেলা সিভিল সার্জন, জেলার সকল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও প্রশাসক, জেলা সদরের সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ও যুগ্ম পরিচালক, এনএসআই প্রতিনিধি, জেলা প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য কর্মকর্তা, সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার, অতিরিক্ত ও সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল), জেলা কমান্ড্যান্ট (আনসার ও ভিডিপি), সকল পৌরসভার মেয়র বা প্রশাসক, জেলা বার এসোসিয়েশন, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বা মনোনীত প্রতিনিধি, জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর, জেলা শিক্ষা অফিসার, ডিজিএফআই প্রতিনিধি, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারের সিনিয়র তত্ত্বাবধায়ক/তত্ত্বাবধায়ক, মুক্তিযোদ্ধা প্রতিনিধি (জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক মনোনীত), জেলার পাঁচজন গণ্যমান্য ব্যক্তি (একজন ইমাম/খতিব ও একজন মহিলাসহ), জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—সবাই কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। জেলার সকল সংসদ সদস্য কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন এবং সভার কার্যবিবরণী তাঁদের নিয়মিত সরবরাহ করতে হবে। প্রয়োজনে পৃথক নোটিশ দিয়ে তাঁদের সভায় উপস্থিত হওয়ার অনুরোধ জানাতে হবে।
জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সংঘটিত অপরাধ পর্যালোচনা, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন, অপরাধী ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধে কার্যকর পন্থা নির্ধারণ। বিশেষভাবে খু’\ন, ধর্ষণ, ছিনতাই, অপহরণ, এসিড নিক্ষেপ, মেয়েদের উত্যক্তকরণ, নারী ও শিশু পাচার, কিশোর গ্যাং অপরাধ, মাদক ব্যবসা ও সেবনের মতো জঘন্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধ দমনে জনসচেতনতা সৃষ্টি, জনগণকে সম্পৃক্ত করা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপে উৎসাহ দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ সরকার ও বিভাগীয় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির কাছে প্রেরণের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সরকার সময় সময় যে নির্দেশনা দেবে, সে অনুযায়ীও কমিটিকে ব্যবস্থা নিতে হবে।
স্থানীয় প্রয়োজন বিবেচনায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট যেকোনো সরকারি কর্মকর্তা বা দপ্তর প্রধানকে কো-অপ্ট করতে পারবেন। কমিটি প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করবে; প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় সভা আহ্বান করা যাবে। পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তসহ সভায় আবশ্যিকভাবে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে ‘উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটি’ও সংশোধন করে পুনর্গঠন করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে সংসদ সদস্য থাকবেন মুখ্য উপদেষ্টা, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বা প্রশাসক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার থাকবেন সভাপতি। সদস্য হিসেবে থাকবেন সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পৌরসভার মেয়র বা প্রশাসক, শিক্ষা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সরকারি-বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, সমাজসেবা অফিসার, আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা, কোস্ট গার্ড প্রতিনিধি (উপকূলীয় উপজেলায়), মাদ্রাসার অধ্যক্ষ/সুপার, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ, সকল ইউপি চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধা প্রতিনিধি, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি, পাঁচজন গণ্যমান্য ব্যক্তি (একজন ইমাম/খতিব ও একজন মহিলাসহ) এবং উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি।
উপজেলা কমিটির ক্ষেত্রেও সভার কার্যবিবরণী মুখ্য উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের নিয়মিত সরবরাহ করতে হবে এবং পৃথক নোটিশের মাধ্যমে তাঁদের উপস্থিতির অনুরোধ জানাতে হবে। কমিটির কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সংঘটিত অপরাধ পর্যালোচনা, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন, অপরাধী ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ। খু’\ন, ধর্ষণ, ছিনতাই, অপহরণ, এসিড নিক্ষেপ, কিশোর গ্যাং অপরাধ, নারী ও শিশু পাচার, মাদক ব্যবসা ও সেবনের মতো জঘন্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টি, জনগণকে সম্পৃক্ত করা, জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রেরণ এবং সরকার ও জেলা কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
প্রয়োজন অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পূর্বানুমোদনক্রমে অনধিক ৪৫ জন সরকারি কর্মকর্তা বা দপ্তর প্রধানকে কো-অপ্ট করতে পারবেন। কমিটি প্রতি মাসে অন্তত একবার সভায় মিলিত হবে এবং প্রয়োজনবোধে অতিরিক্ত সভা করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তসহ সভায় আবশ্যিকভাবে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


