গ্রামমুখী জনস্রোতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট

নির্বাচনকে ঘিরে পুলিশ সদস্যদের মাঠ পর্যায়ে মোতায়েন এবং ভোটের উদ্দেশ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষের গ্রামের দিকে ছুটে চলা—এই দুইয়ের চাপে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই যানজটে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এবং এশিয়ান হাইওয়েতে সহস্রাধিক যানবাহন একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সকাল থেকেই বাস, ট্রাক এবং ব্যক্তিগত গাড়িগুলো এক ইঞ্চি নড়তে পারছে না অনেক সময় ধরে। ভোগান্তির চরমে পৌঁছেছে যাত্রীরা—বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ হয়েছে সবচেয়ে বেশি।

ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের জন্য গ্রামে ফেরার এই বিশাল ঢলকে সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে কারণ প্রায় সব পুলিশ সদস্যই নির্বাচনী দায়িত্বে মাঠে রয়েছেন। ফলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন হাতে গোনা কয়েকজন কর্মকর্তা।

শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ জুলহাস জানান, ‘নির্বাচনের কারণে আমাদের প্রায় সকল সদস্যকে মাঠ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলে শিমরাইলে আমরা মাত্র দুজন দায়িত্ব পালন করছি।’ তিনি স্বীকার করেন, এত অল্প জনবল নিয়ে এতো বড় সড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

অন্যদিকে, কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সাহাবুর রহমান বলেন, ‘ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চলমান সংস্কারকাজের কারণে যানজট সেখানে যেমন বেড়েছে, তার চাপ এসে পড়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও। আমাদের থানায় মাত্র চারজন সদস্য রয়েছেন, বাকিরা সবাই নি’\র্বা’\চনী দায়িত্বে। এত কম জনবল নিয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা বেশ দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে।’

যদিও পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি সামাল দিতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবুও ঈদের মতো ঘরমুখো মানুষের ঢল, মহাসড়কের সংস্কারকাজ এবং প্রশাসনিক জনবল সংকট মিলিয়ে এক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন সাধারণ যাত্রীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *