ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ বাঞ্ছারামপুর আসনে জামায়াতে ইসলামী পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ও বিএনপি জোটের ‘মাথাল’ প্রতীকের প্রার্থী জোনায়েদ সাকি। মঙ্গলবার বিকেলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সদরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশেই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই গত দুই দিনে পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন প্রার্থীর বক্তব্যে ভোট দখল বা কারচুপি ঠেকানোর নামে ভোটারদের হাতে বাঁশের লাঠি নিয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে জাতীয় গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গতকাল বাঞ্ছারামপুরে আমরা দেখেছি অটোরিকশায় করে ছোট ছোট বাঁশ বহন করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে সেগুলো জমা করা হচ্ছে। একটি অটোরিকশায় জামায়াতে ইসলামীর ব্যানারও ছিল। এ ঘটনায় জামায়াতের ইউনিয়ন পর্যায়ের এক নেতাকে জনতা আটক করে পুলিশে দিলে তাকে ছাড়িয়ে নিতে দলীয় নেতাকর্মীরা এগিয়ে আসে।
জোনায়েদ সাকি বলেন, এসব কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে যে প্রতিদ্বন্দ্বী কিছু দল পরিকল্পিতভাবে ভোটকেন্দ্রে বাঁশের লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র জমা করছে, যা থেকে অঘটনের আশঙ্কা রয়েছে। এটি ভয়ংকর রকমের উস্কানিমূলক এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির শামিল,বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমরা বাঞ্ছারামপুরের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে জনগণকে নির্ভয়ে ভোট দিতে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। জনগণ যাকে ভোট দেবে, আমরা তাকেই মেনে নিতে প্রস্তুত। আমরা শতভাগ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই।তবে আগাম ভোট দখলের শঙ্কা ছড়ানো এবং ভোট বানচালের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে জোনায়েদ সাকি বলেন, ভোট ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেশকে বিভক্ত করা হয়েছে, যার সুযোগে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর বিদেশি প্রভাব বেড়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে জনগণের ঐক্যই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের একমাত্র গ্যারান্টি। তাই ভোট বানচালের যেকোনো তৎপরতা দেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকি।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবিতে তারা আন্দোলন করে আসছেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই আন্দোলন আরও শক্তিশালী হয়েছে। শহীদদের রক্তের ঋণে আমরা সবাই দায়বদ্ধ। সেই দায় থেকে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব,বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, বৃহত্তর দল হিসেবে বিএনপির নেতাকর্মীরা যেভাবে জনমত গঠন ও নির্বাচনী প্রচারে আন্তরিকতা দেখিয়েছেন, তা রক্তের বিনিময়ে গড়ে ওঠা ঐক্যেরই প্রতিফলন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, সাধারণ সম্পাদক ভিপি এ কে এম মূসা, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সালে মূসাসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।


