সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উভয়ের ফলাফল একসঙ্গে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ (Brig. Gen. (Retd.) Abul Fazal Md. Sanaullah)। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকালে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল আমরা একসঙ্গে দিতে থাকব। কেন্দ্রেও দুটি ব্যা’\ল’\ট একসঙ্গে গণনা করা হবে। সাদা ব্যা’\ল’\ট সংসদ নির্বাচনের জন্য এবং গোলাপি ব্যা’\ল’\ট গণভোটের জন্য। জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর যেন এজেন্টরা চলে না যান বা বাইরে অস্থিরতা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য দুটো ফল একসঙ্গে ঘোষণা করা হবে।”
সানাউল্লাহ আরও জানান, এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোট ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে থাকবেন ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, “৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার ও ৫৯৮ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার ছাড়াও ভোটগ্রহণে থাকবেন ৪২,৭৭৯ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ২,৪৭,৪৮২ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ৪,৯৪,৯৬৪ জন পোলিং অফিসার। অর্থাৎ সর্বমোট ৭,৮৫,২২৫ জন কর্মকর্তা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন।”
ভোট গণনার বিষয়ে তিনি বলেন, “ভোট শেষে কেন্দ্র থেকেই একটি প্রাথমিক ফল প্রকাশ হবে। এরপর সহকারী রিটার্নিং অফিসারের স্বাক্ষরসহ সেটি রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে কমিশনে পাঠানো হবে এবং ঘোষণা মঞ্চ থেকে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে।”
তিনি আরও জানান, প্রতিটি কেন্দ্রের অ-দাপ্তরিক ফলাফল আগে জানানো হলেও, রিটার্নিং অফিসাররা প্রার্থী বা তাদের এজেন্টদের উপস্থিতিতে তা ‘ফর্ম ১৮’-তে লিপিবদ্ধ করবেন। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই গেজেট প্রকাশিত হবে।
নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে ইউএভি (ড্রোন) ও বডি ওর্ন ক্যামেরা। প্রায় ২৫ হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরা মাঠে থাকছে, যার মধ্যে কিছু আইপি বেসড ক্যামেরা সরাসরি ফিড দেবে, বাকিগুলো লোকালভাবে রেকর্ড করবে। পাশাপাশি ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে ইতোমধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে ৪২,৬৫৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। তবে কেন্দ্রের সীমানায় ভোটার থাকলে তাদের ভোট গ্রহণ করা হবে।
ভোটার স্লিপের বিষয়ে তিনি জানান, প্রার্থীর নাম ও প্রতীকসহ স্লিপ দেওয়া যাবে, তবে আয়তন অপরিবর্তিত থাকবে। গোপন কক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, এমনকি সাংবাদিকদেরও সেখানে প্রবেশ বা লাইভ করার অনুমতি থাকবে না, যদিও নীতিমালা অনুযায়ী সাংবাদিকরা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
নির্বাচনে অবৈধ অস্ত্র ও অর্থ ব্যবহারের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে কমিশন। কমিশনার জানান, ১৩ ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ৮৫০টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। একটি ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের টাকা স্থানান্তরের বিষয়েও বিএফআইইউ (BFIU)-কে নজর রাখতে বলা হয়েছে।
সর্বশেষে তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সন্তুষ্ট। তিনি দল, প্রার্থী ও ভোটারদের উৎসবমুখর পরিবেশে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে ভোটদান করার আহ্বান জানান।


