পটুয়াখালীর বাউফলে পৃথক দুটি স্থানে বস্তাভর্তি কাটা পাইপ, প্রার্থীর লিফলেট ও দেশীয় অস্ত্রসহ বেশ কয়েকজন জামায়াত সমর্থককে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নাজিরপুর ইউনিয়ন এবং রাতে কনকদিয়া ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের কয়েক ঘণ্টা বেগ পেতে হয়।
বিকেলে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রামনগর চৌমাথা এলাকায় একটি ভ্যানে করে বস্তাভর্তি কাটা পাইপ, জামায়াত প্রার্থীর লিফলেট ও ভোটার তালিকা নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা কয়েকজনকে আটক করে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা ওই পাইপ বহনের কোনো সন্তোষজনক কারণ জানাতে পারেননি।
ঘটনাস্থলে জামায়াত নেতারা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে স্থানীয় বিএনপি সমর্থক ও জনতা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পুলিশ আটক ব্যক্তিদের নিরাপত্তা দিতে ভ্যানে তুললে জনতা পথরোধ করে এবং সেনাবাহিনীর উপস্থিতির দাবি জানায়।
এ সময় জুনায়েদ নামে এক যুবক নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে স্থানীয়দের ওপর চড়াও হলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়। পরে সেনাবাহিনীর একটি দল এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানা যায়, তিনি সাবেক আনসার সদস্য এবং বাউফলের কালিশুরি ইউনিয়নের বাসিন্দা।
এদিকে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কনকদিয়া ইউনিয়নে তিনটি রামদাসহ একই ধরনের কাটা পাইপ বহনকালে তিন জামায়াত কর্মীকে আটক করে স্থানীয় জনতা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার পুলিশকে জানালেও তারা ঘটনাস্থলে না আসায় জনতা আটক ব্যক্তিদের বেঁধে রাখে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহাগ মিলু নাজিরপুরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় ভুয়া সেনা পরিচয় দেওয়া যুবকসহ কাটা পাইপ বহনকারী একজনের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
বাউফলে এর আগেও বিভিন্ন সংঘর্ষে এ ধরনের কাটা পাইপের ব্যবহার দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা জানান। বিপুল পরিমাণ পাইপ ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে উদ্বেগ ও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


