কেন্দ্র খোলার আগেই দীর্ঘ লাইন, রাজধানীর মিরপুর-পল্লবীতে ভোটারদের ভোরের জটলা

ভোটগ্রহণ শুরুর নির্ধারিত সময়ের আগেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মিরপুর ও পল্লবী এলাকায় কেন্দ্র খোলার আগেই ভোটারদের দীর্ঘ লাইন ও জটলা দেখা গেছে। সকাল সাড়ে ছয়টা থেকেই অনেকে কেন্দ্রে এসে অবস্থান নিতে শুরু করেন।

পল্লবী বিদ্যা নিকেতন, মিল্কভিটা রোড এলাকার কেন্দ্রের বাইরে সকাল থেকেই ভোটারদের ভিড় জমতে থাকে। একই চিত্র দেখা গেছে মিরপুর কাজীপাড়া সিদ্দিকীয়া ফাযিল মাদরাসা ভোটকেন্দ্রে। সকাল সাড়ে ছয়টার আগেই সেখানে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন অনেকে। কাজীপাড়া ছিফিকিয়া ফাযিল মাদ্রাসা কেন্দ্রেও কেন্দ্র খোলার আগেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তার অনেক আগেই ভোটাররা কেন্দ্রে পৌঁছে যান। কোথাও কোথাও সকাল ৭টার আগেই মূল ফটকের সামনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে ভোটারদের।

দোয়ারিপাড়া পল্লবী ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের বাইরে এজেন্টদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। কেন্দ্র সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শুরু হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

খিলগাঁওয়ের তালতলা এলাকার একটি কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়ানো আবদুল কাদের বলেন, ‘সকাল সকাল চলে এসেছি। পরে ভিড় বাড়লে ঝামেলা হতে পারে। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে চাই।’

রামপুরার সালামবাগ জামে মসজিদ কেন্দ্রের সামনে অপেক্ষমাণ জামাল হোসেন বলেন, ‘অনেকদিন পর ভোট নিয়ে মানুষের আগ্রহ দেখছি। তাই দেরি না করে চলে এসেছি।’ তার প্রত্যাশা, ভোটের পরিবেশ উৎসবমুখর থাকবে এবং সবাই নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন।

একই কেন্দ্রে প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে আসা তরুণ সিয়াম হোসেন বলেন, ‘প্রথমবার ভোট দিচ্ছি। তাই একটু উত্তেজনাও কাজ করছে। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হোক—এটাই চাই।’

মো. মহিউদ্দিন জানান, ‘ফজরের নামাজ শেষে কয়েকজন একসঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়েছি। সকাল সকাল ভোট দিয়ে বাসায় ফিরব।’

কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, ভোটগ্রহণ শুরুর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ভোটারদের শৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়াতে এবং জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে। কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

নির্বাচন কমিশন (Election Commission) আগেই জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পর্যবেক্ষক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও মাঠে রয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *