বাগেরহাটের শরণখোলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির অন্তত ১৯ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর সোনাতলা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা-কর্মী সাব্বির, তরিকুল, সোবহান, নাজমা ও ফরিদাসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপির রফিকুল ও ছিদ্দিকসহ ৪ জন আহত হয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।
এদিকে পৃথক অভিযানে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বেলা ১১টার দিকে কচুয়া উপজেলার বিছট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের পাশ থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ নাহিদ নামের এক যুবককে আটক করেছে যৌথবাহিনী। তার কাছ থেকে রামদাসহ বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া সদর উপজেলার হাড়িখালী কাঠের পোল এলাকায় যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে একটি ফার্নিচারের দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে ছয়টি হাসুয়া, তিনটি করাত, তিনটি চাকু, একটি বড় হাতুড়ি এবং সাতটি লোহার হাতুড়ি জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানকারী দল জানিয়েছে, নাশকতার উদ্দেশ্যে এসব দেশীয় অস্ত্র মজুত করে রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার হাসান চৌধুরী বলেন, অপরাধের ব্যাপারে তারা জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছেন। কেউ কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা গোলাম মো. বাতেন বলেন, শরণখোলায় একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে তৎপর রয়েছেন।


