তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় জয় :ব্রিটিশ গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিএনপি। তবে নির্বাচনকে স্বীকৃতি দিতে রাজি না হলেও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর, তার সঙ্গে আলোচনায় রাজি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা জয়ের সাক্ষাৎকার নেয় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আইটিভি। বাংলাদেশ সময় শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে টেলিভিশনটি এ সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করে।

এসময় তিনি বলেছেন, আমি এমন একজন মানুষ, যে সবসময় আলোচনায় বিশ্বাস করে, তা যত কঠিনই হোক বা যার সঙ্গেই হোক। এটাই আমার কৌশল, জীবনে সবসময়ই এভাবেই চলেছি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলকে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ স্বাগত জানালেও এ নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলছেন তিনি।

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় দল এবং সব প্রগতিশীল দলকে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখা হয়েছে। মূলত এমনভাবে সাজানো একটি নির্বাচন হয়েছে, যাতে সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামী তাদের জনসমর্থনের তুলনায় অনেক বেশি প্রভাব সংসদে পায়।

তিনি আরও বলেন, দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের একটি নিষিদ্ধ– এমন নির্বাচনকে কীভাবে গ্রহণযোগ্য বলা যায়? যুক্তরাজ্যে যদি টোরি বা লিবারেলদের যে কোনো একটি দল নিষিদ্ধ করা হতো, সেটার সমতুল্য পরিস্থিতি এটি।

তিনি এ নির্বাচনকে কোনোভাবেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন বলা যায় না বলেও মন্তব্য করেছেন।

আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেনি বলে জানান তিনি। জামায়াত তাদের গঠনতন্ত্র সংশোধন করলে আবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারত। তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি আদালতের রায়ের কারণে।

এবারের নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বললেও আওয়ামী লীগ আমলের তিনটি নির্বাচনে কারচুপির ব্যাপক অভিযোগ ছিল–এ প্রশ্নে তিনি দাবি করেন, বিষয়টি পুরোপুরি সঠিক নয়। গত তিনবারের মধ্যে প্রথম ও তৃতীয়বার বিরোধী দল নির্বাচন বর্জন করেছিল।

এখন যদি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও বিদেশি সাংবাদিকরা তাদের মূল্যায়নে বলেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে, তাহলে মেনে নেবেন কিনা–সে প্রশ্নে জয় বলেন, না, মেনে নেওয়া যায় না। দেশে যে অল্পসংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষক রয়েছেন, তারা সরকারের তত্ত্বাবধানে চলাচল করছেন। সত্যি বলতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও এতটাই খারাপ যে নিরাপদ নয়। তাহলে তারা আসলে কতটা পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছেন?

বাংলাদেশে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবশ্যই একসময় ফিরব। দেখুন– তারেক রহমান, যিনি দণ্ডিত হয়েছিলেন, তিনি এখন সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী। এসব পরিস্থিতি চিরস্থায়ী হয় না।

শেখ হাসিনা কখনও বাংলাদেশে ফিরবেন কিনা, সেই প্রশ্নে জয় বলেন, আমার কোনো সন্দেহ নেই, তিনি একদিন ফিরবেন। তবে এই মুহূর্তে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা একেবারেই নিরাপদ হবে না বলে জানান তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *