দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও সার্বজনীন করার লক্ষ্য নিয়ে বড় ধরনের নিয়োগ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, শিগগিরই প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৮০ হাজারই হবেন নারী।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে ঢাকার সিরডাপ (CIRDAP) মিলনায়তনে আয়োজিত এক ডায়ালগ অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। ‘বাংলাদেশ সর্বজনীন স্বাস্থ্যের পথে’ শীর্ষক এই আলোচনার আয়োজন করে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (Power and Participation Research Centre – PPRC)।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সহজলভ্য করতে ই-হেলথ কার্ড চালুর কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো তৈরির কাজও চলছে। একইসঙ্গে প্রাইমারি হেলথকেয়ার সিস্টেমকে আরও কার্যকর ও মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮০ হাজার নারী স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানান তিনি।
তবে স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘদিনের কিছু সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই খাতে দুর্নীতির বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। অতীতে অনেক পরিকল্পনা এবং উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত দুর্নীতির জালে আটকে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, সঠিক তদারকি না থাকলে ভালো উদ্যোগও শেষ পর্যন্ত মেগা দুর্নীতির খাতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এ কারণে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি শক্তিশালী ‘পাইপলাইনিং’ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নজরদারি থাকে এবং কাজগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়।
স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যে ভোগান্তির শিকার হন, সে বিষয়টিও আলোচনায় তুলে ধরেন এম এ মুহিত। তিনি বলেন, অনেক হাসপাতালে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যে রোগীদের নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়। একই সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নিয়মিত হাসপাতালে উপস্থিত না থাকার অভিযোগও রয়েছে।
এসব সমস্যা সমাধানে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি। তার মতে, স্বাস্থ্যখাতকে সত্যিকার অর্থে মানুষের জন্য কার্যকর করতে হলে সেবা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা, জবাবদিহি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই হবে।


