নতুন সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের জন্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ৩৭টি সরকারি বাসভবন প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান (Adilur Rahman Khan)।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত ৩৭টি বাড়ি প্রস্তুত রয়েছে। এসব বাড়ি মিন্টো রোড, হেয়ার রোড, ধানমন্ডি ও গুলশান এলাকায় অবস্থিত। প্রয়োজনে আরো কয়েকটি বাড়ি প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
উপদেষ্টা জানান, প্রস্তুত রাখা এসব বাসভবনের মধ্যে বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্য যে বাড়িগুলোতে বসবাস করছেন, সেগুলোরও অন্তর্ভুক্তি রয়েছে। অর্থাৎ নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আগেভাগেই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন বিষয়ে জানতে চাইলে আদিলুর রহমান খান বলেন, “ওনারা যেভাবে চান, সেভাবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।” বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party)। নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শপথ নেবেন।
নিজেদের মেয়াদ শেষে পরবর্তী সরকারের জন্য কী রেখে যাচ্ছেন—এমন প্রশ্নে শিল্প ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও থাকা উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, “তিনটি মন্ত্রণালয়ের জন্যই ‘সাকসেসরস নোট’ রেখে যাওয়া হচ্ছে।” তার ভাষায়, দায়িত্ব হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এই উদ্যোগ।
তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৮ মাস ধরে জনগণের স্বার্থে কাজ করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং দীর্ঘ সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে দেশকে নতুন গতিতে এগিয়ে নিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশের এক ধাপ পিছিয়ে পড়া নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (Transparency International Bangladesh)-এর কাছেই জানতে হবে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তি কী, সে প্রশ্নও তাদেরই করা উচিত।”
তিনি আরও যোগ করেন, “জনগণের আলোচনা ও টিআইবির প্রতিবেদনের মূল্যায়ন সব ক্ষেত্রে একরকম নাও হতে পারে। অনেক জায়গায় সংস্কার শুরু হয়েছে, কিছু জায়গায় এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে, তবে সেগুলো সম্পন্ন হবে।”


