দীর্ঘদিনের ঘোষণার পর অবশেষে তা বাস্তবে রূপ পেল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭-এ নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়ে পূরণ করলেন বহু প্রতীক্ষিত এক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর মহাখালী এলাকার টিএন্ডটি মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি কড়াইল বস্তি এলাকার নারীদের মাঝে এই কার্ড বিতরণ করেন। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নারীদের হাতে প্রত্যাশিত ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন তিনি, যা ঘিরে এলাকায় তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
জানা গেছে, প্রায় ১৭ বছর লন্ডনে অবস্থানকালে বিএনপি-র চেয়ারম্যান হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সময়ই তারেক রহমান প্রথম ফ্যামিলি কার্ড চালুর ঘোষণা দেন। সেই সময় এটি ছিল একটি নির্বাচনী অঙ্গীকার। দীর্ঘ সময় পর দেশে ফিরে এখন তিনি সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন শুরু করলেন।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নারীর ক্ষমতায়নকে সামনে রেখে পরিবারভিত্তিক আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যেই পরীক্ষামূলক বা পাইলটিং পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে কড়াইলের পাশাপাশি সাততলা, ভাষানটেকসহ মিরপুরের আরও কয়েকটি এলাকাকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড ঘিরে কড়াইলের বাসিন্দাদের মধ্যে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের নারীদের মাঝে দেখা গেছে উৎসাহ ও প্রত্যাশা। অনেকেই জানিয়েছেন, কার্ড পাওয়ার জন্য তারা নাম, মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং আর্থিক অবস্থাসহ নানা তথ্য জমা দিয়েছেন।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, পাইলটিং কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন বা ইউনিয়নের মোট ১৫টি ওয়ার্ডে এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ পর্যায়ে সারাদেশে নারীপ্রধান মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি পরিবারের তথ্য সঠিক বলে নিশ্চিত করা হয়। তবে একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা নেওয়া, সরকারি চাকরি বা পেনশন সুবিধা পাওয়ার মতো কারণ বিবেচনায় রেখে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
সরকারের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাইলটিং পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও ফলাফল বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে এই কর্মসূচি ধীরে ধীরে দেশের আরও বিস্তৃত এলাকায় সম্প্রসারণ করা হতে পারে।


