পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন হুমায়ুন কবির (Humayun Kabir)। তিনি বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা এবং সিলেট-2 (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য।
জন্মসূত্রে সিলেটের সন্তান হুমায়ুন কবির যুক্তরাজ্যে বেড়ে ওঠেন এবং সেখানেই দীর্ঘ সময় রাজনীতি ও প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স থেকে রাজনীতিতে মাস্টার্স, ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজ থেকে ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স এবং লিডস ল’ স্কুল থেকে আইনে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনেই আন্তর্জাতিক রাজনীতি, প্রশাসন ও জননীতি নিয়ে তাঁর কাজের সূচনা হয়।
পেশাগত জীবনে তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডন মেয়রের দপ্তরে কৌশল সহকারী হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীতে লিউইশাম এক্সিকিউটিভ মেয়রের কার্যালয়ে কেবিনেট উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ব্রিটিশ সরকারের উচ্চপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি—প্রথমে বরিস জনসনের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি টিমে এবং পরে প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের অধীনে ন্যায় মন্ত্রণালয়ে একাধিক কেবিনেট মন্ত্রী ও বিশেষ উপদেষ্টার সঙ্গে প্রাইভেট সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করেন।
রাজনৈতিক জীবনে হুমায়ুন কবির বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কর্মকৌশল ও কূটনৈতিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এবং দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।
তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে লন্ডন ও ইউরোপে বিএনপির আন্তর্জাতিক যোগাযোগ জোরদারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের রাজনীতি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পক্ষে বক্তব্যও দেন। সম্প্রতি তাঁকে দলের যুগ্ম মহাসচিব করা হয়েছে, যা তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নতুন সরকারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর অভিজ্ঞতা কীভাবে কাজে লাগান, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।


