দুদিন পরই শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান। রাজধানীর ব্যস্ত জীবনে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ভরসা মেট্রোরেল—আর তাই রোজাদার যাত্রীদের মনে ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: ইফতারের সময় মেট্রোট্রেনে পানি বহন করা যাবে কি না? সেই দীর্ঘদিনের সংশয়ের অবসান ঘটিয়েছে ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেড (Dhaka Mass Rapid Transit Company Limited)।
আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে সংস্থাটি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ইফতারের সময় পানি পান করার উদ্দেশ্যে প্রত্যেক যাত্রী মেট্রোট্রেন ও স্টেশন এলাকায় সর্বোচ্চ ২৫০ মিলিলিটার পানির বোতল বহন করতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—পানি যেন কোনোভাবেই পড়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ব্যবহৃত পানির বোতল অবশ্যই প্ল্যাটফর্ম, কনকোর্স, এন্ট্রি ও এক্সিট গেইটে রাখা নির্ধারিত ডাস্টবিনে ফেলতে হবে। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং অন্য যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছে কর্তৃপক্ষ।
তবে পানি ছাড়া অন্য কোনো খাবার গ্রহণের বিষয়ে কড়াকড়ি বজায় থাকছে। স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, প্ল্যাটফর্ম, কনকোর্স কিংবা মেট্রোট্রেনের ভেতরে কোনো অবস্থাতেই অন্য খাবার খাওয়া যাবে না।
রমজান উপলক্ষে সময়সূচিতেও এসেছে পরিবর্তন। অফিস সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মেট্রোরেল চলাচলে বিশেষ সময়সূচি ঘোষণা করেছে ডিএমটিসিএল। সোমবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে মতিঝিলগামী প্রথম ট্রেন ছাড়বে সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে এবং শেষ ট্রেন রাত ৯টা ৩০ মিনিটে।
অন্যদিকে মতিঝিল থেকে উত্তরা উত্তর অভিমুখে প্রথম ট্রেন ছাড়বে সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে, আর শেষ ট্রেন রাত ১০টা ১০ মিনিটে।
ব্যস্ত সকাল ও বিকেলের সময়ে ট্রেনের হেডওয়ে—অর্থাৎ এক ট্রেনের পর আরেক ট্রেনের ব্যবধান—রাখা হয়েছে ৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ড থেকে ৮ মিনিটের মধ্যে। স্বাভাবিক সময়ে এই ব্যবধান সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইফতার সামগ্রী বহনের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে স্টেশন ও ট্রেনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে যাত্রীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শনিবার এবং অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনেও এই সময়সূচি কার্যকর থাকবে।


