ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের পর গঠিত নতুন সরকারের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো—প্রথমবারের মতো বিপুল সংখ্যক তরুণ ও নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর নেতৃত্বে গঠিত ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভায় ৪১ জনই এবার প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হয়েছেন।
২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে গঠিত এই মন্ত্রিসভায় বয়স ও অভিজ্ঞতার দিক থেকে একটি স্পষ্ট প্রজন্মগত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বড় অংশই তুলনামূলকভাবে তরুণ, উচ্চশিক্ষিত এবং পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত। দলীয় সূত্রে বলা হচ্ছে, নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে সামনে আনার লক্ষ্য থেকেই এই বিন্যাস।
২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে ২২ জনই এবার প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁদের অনেকেই দীর্ঘদিন সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে কাজ করেছেন, কেউ কেউ পেশাজীবী ও একাডেমিক পটভূমি থেকে উঠে এসেছেন। ফলে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
টেকনোক্র্যাট কোটাতেও নতুন মুখ এসেছে। পেশাগত অভিজ্ঞতা ও নীতিনির্ধারণে দক্ষতার ভিত্তিতে তিনজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা তরুণ নেতৃত্বের সঙ্গে বিশেষজ্ঞ মতামতের সমন্বয়ের ইঙ্গিত দেয়।
আবার মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় যে ১০ জনকে উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাদের ৭ জনই নতুন মুখ। এদের মধ্যে যেমন আছেন তারেক রহমানের ১৭ বছরের রাজনৈতিক সহচর আবার আছেন ডা. জাহেদুর রহমানের মতো রাজনৈতিক একটিভিস্ট।
দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party – BNP) যে নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছে এই তরুণ মন্ত্রিসভা। অভিজ্ঞ জ্যেষ্ঠদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে দায়িত্ব দিয়ে সরকার ভবিষ্যতমুখী দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দিয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা।
নতুন এই তরুণ মন্ত্রিসভা প্রশাসনে কী ধরনের পরিবর্তন আনে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


