পরস্পরের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা, নন-ইন্টারফেরেন্স, কারও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, ন্যাশনাল ডিগনিটি ও পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে এগোনোর কথা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান (Dr. Khalilur Rahman) বলেছেন, “আমরা আমাদের পররাষ্ট্র কর্মকাণ্ডে আমাদের জাতীয় স্বার্থ পাই পাই করে বুঝে নেবো।” তার ভাষায়, একতরফা কিছু নয়—জাতীয় সম্মান-মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখেই সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা হবে।
বুধবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সফররত নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ (Shama Obaed)।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, এক অর্থে তারা মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (Ziaur Rahman)-এর ফরেন পলিসির ধারায় ফিরে যেতে চান। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও সেই দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণের চেষ্টা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ইতিবাচক ও বিস্তৃত ছিল, সেই জায়গায় পুনরায় অবস্থান নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
নিজের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়ার সময় জিয়াউর রহমানের তিনটি সাহসী পদক্ষেপ তার মনে পড়ে। ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভের চার বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য পদে নির্বাচনের উদ্যোগ এবং জাপানের মতো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করে বিজয় অর্জনের বিষয়টি তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
দ্বিতীয় উদাহরণ হিসেবে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা—সার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথা বলেন। তার ভাষায়, বিশ্বের অন্যতম কম সংযুক্ত অঞ্চলে আঞ্চলিক কানেক্টিভিটির ধারণা তুলে ধরে সার্ক গঠনে বড় ভূমিকা রাখা হয়েছিল। তৃতীয়ত, আঞ্চলিক ও বিশ্বশান্তি রক্ষায় আলকুদস কমিটিতে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ড. খলিলুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশ নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী যে ভূমিকা রাখতে পারে, আমরা সেটা করতে চাই। আমাদের ফরেন পলিসিতে ওই বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে।”
রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এ বিষয়ে বাংলাদেশের নজর কোনোভাবেই কমবে না, বরং আরও জোরদার হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সর্বপ্রথম আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল এবং সেই যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। সমস্যাটির আশু সমাধানের চেষ্টা চলবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ দায়িত্বকে চ্যালেঞ্জিং হলেও আগ্রহজনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করে সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখা।” তার মতে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, নতুন পররাষ্ট্রনীতি সেই জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে এবং সেই লক্ষ্যেই তারা এগোতে চান।


