নবম পে স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, বাস্তবতা যাচাইয়ের কথা বললেন [আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী](https://tazakhobor.com/tag/আমীর-খসরু-মাহমুদ-চৌধুরী) (Amir Khasru Mahmud Chowdhury)

নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (Amir Khasru Mahmud Chowdhury) জানিয়েছেন, নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি বলে স্পষ্ট করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পে স্কেলের সুপারিশ আমাদের আগে দেখতে হবে। না দেখে এ বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়।’ তিনি ইঙ্গিত দেন, কেবল প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে ঘোষণা দেওয়া হবে না; বরং বর্তমান আর্থিক বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে সুপারিশগুলো বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হবে। ‘বর্তমান আর্থিক অবস্থায় এটি কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে, সেটি আমরা যাচাই করবো’—যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, দেশের ট্যাক্স রেভিনিউ এবং ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের ব্যয়সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে গভীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা জরুরি বলে মনে করছেন তিনি। পে স্কেল কতটা বাস্তবায়নযোগ্য হবে, তা অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়েই নির্ধারণ করা হবে।

দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি সব মানুষের জন্য হতে হবে।’ তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি নাগরিককে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে পারলেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা এবং সবার জন্য সুযোগ তৈরি করা।’ অর্থনীতিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করার ওপর জোর দেন তিনি।

আমীর খসরু উল্লেখ করেন, ‘৫ আগস্টের পর জনগণের মানসিকতায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, যা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হতে হবে।’ এই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। প্রফেশনালিজম, স্বচ্ছতা এবং কার্যকারিতা বৃদ্ধিকেই এখন প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেন।

তিনি পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি থেকে গণতান্ত্রিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন। এ লক্ষ্যে ডিরেগুলেশন, লিবারলাইজেশন এবং ম্যানুফ্যাকচারিং-নির্ভরতার বাইরে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বিস্তারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে অর্থনৈতিক প্রবাহে যুক্ত করার মধ্য দিয়েই টেকসই ভিত্তি তৈরি সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘বরিশালের সাধারণ শীতলপাটির দাম ৬০০-৭০০ টাকা। যদি কারিগরদের প্রশিক্ষণ, ঋণ ও অনলাইন মার্কেটিংয়ের সুযোগ দেওয়া যায়, তারা নতুন ডিজাইন ও বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তৈরি করতে পারবে এবং বড় বাজার সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।’ অর্থনীতির বিকেন্দ্রীকরণ ও তৃণমূল সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতেই এই উদাহরণ দেন তিনি।

এদিকে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে বর্তমান আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং কম ট্যাক্স রাজস্বের বাস্তবতায় নবম পে স্কেল সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে। মন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন, পে স্কেলের সুপারিশগুলো পর্যবেক্ষণ ও বিশদ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়, বরং অর্থনৈতিক সক্ষমতার নিরিখে তা যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *