রমজানেই সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটের প্রস্তুতি, ঈদের পর শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ — জানাল ইসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন চলতি রমজান মাসেই আয়োজনের পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, খুব শিগগিরই এ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করা হতে পারে। আইন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে এবার সংরক্ষিত নারী আসনের বড় অংশ পাচ্ছে বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party), পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য আসন পাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami) ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizen Party)।

এ ছাড়া একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে স্থগিত হওয়া শেরপুর-৩ আসন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচন ঈদের পরে আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে অনুরোধ জানিয়ে ইতোমধ্যে চিঠি পাঠিয়েছে ইসি।

সার্বিক বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন রোজার মধ্যেই করার পরিকল্পনা নিয়ে কমিশনে আলোচনা হয়েছে। ঈদের আগেই এ নির্বাচনের সব কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। তিনি আরও জানান, নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, যে দল সাধারণ আসনে যতটি আসন পায়, সেই অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। প্রতি ছয়টি সাধারণ আসনের বিপরীতে একটি নারী আসন নির্ধারিত। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এককভাবে নারী আসন পান না; তবে জোটবদ্ধ হয়ে আবেদন করলে তারা আসন পেতে পারেন।

এবারের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি সাধারণ আসন। জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি আসন। খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসন পেয়েছে। নির্বাচনে অংশ নিলেও জাতীয় পার্টিসহ ৪১টি দল কোনো আসন পায়নি।

নারী আসন বণ্টনের নির্ধারিত সূত্র অনুযায়ী, কোনো দল সংসদে যত আসন পায়, সেই সংখ্যাকে ৫০ দিয়ে গুণ করে ৩০০ দিয়ে ভাগ করলে প্রাপ্ত ফলই সংশ্লিষ্ট দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা। এ হিসাবে বিএনপি পাবে ৩৪ দশমিক ৬৬, অর্থাৎ ৩৫টি আসন। জামায়াতে ইসলামী পাবে ১১ দশমিক ৩৩, অর্থাৎ ১১টি আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পাবে ১ দশমিক ১৬ শতাংশ হিসেবে ১টি আসন। জাতীয় নাগরিক পার্টিও পাবে ১টি সংরক্ষিত নারী আসন।

সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতিও জোরদার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরপরই এবার নজর যাচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে চিঠি এসেছে বলে জানিয়েছেন ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা। বিষয়টি কমিশনে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের পাঠানো পৃথক দুই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ সালের ২ জুন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়; সে হিসাবে গত বছরের ১ জুন এ সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ২০২০ সালের ৩ জুন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়, যার মেয়াদ শেষ হবে ২০২৫ সালের ২ জুন। এছাড়া ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়; সে হিসাবে এ সিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি।

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, প্রথম সভার তারিখ থেকে পাঁচ বছর মেয়াদ গণনা করা হয় এবং মেয়াদ পূর্তির আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর মেয়র ও চেয়ারম্যানদের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে সরকার ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৭টি উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাহাদাত হোসেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *