আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাইয়ের বিচার কি চলমান থাকবে ? যা জানালেন চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই হ’\ত্যা’\কা’\ণ্ডের বিচার কার্যক্রম চলমান থাকবে—এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তিনি বলেন, “আপনারা গতকাল হয়তো দেখেছেন আইনমন্ত্রী বলেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের যে কার্যক্রম, সেটা স্বাভাবিক গতিতেই চলমান থাকবে। সুতরাং আমরা আশাকরি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার চলমান থাকবে।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল—সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না দিলেও কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত রয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, “সরকার আমাদের সুনির্দিষ্ট কিছু না বললেও চলমান রাখার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা দায়িত্বে আছি, আমরা স্বাভাবিক গতিতেই সমস্ত কর্মকাণ্ড চলমান রাখবো এবং এটাই ন্যায়বিচারের দাবি।” বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যেই তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।

এদিকে জুলাই হ’\ত্যা’\কা’\ণ্ড মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন মিরপুর এলাকার শহীদ ফজলে রাব্বির বাবা ও শহীদ তানহার বাবা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ (International Crimes Tribunal-2)-এ এ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আবেগঘন পরিবেশে তাঁদের বক্তব্য আদালতকক্ষে উপস্থিতদের নীরব করে তোলে।

অন্যদিকে, র‍্যাবের টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ (International Crimes Tribunal-1)। একই দিনে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল, জাভেদ পাটোয়ারি ও হারুন অর রশিদসহ সব আসামিকে আদালতে হাজির করার নির্দেশও দেন ট্রাইব্যুনাল।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সংসদ সদস্য আখতার হোসেন মন্তব্য করেছেন, শেখ হাসিনাসহ আসামিদের বিদেশ থেকে দেশে এনে বিচারের আওতায় আনা বর্তমান সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাঁর ভাষ্য, মূল আসামিদের এখনো গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি না করার ব্যর্থতা দূর করতে হবে বিএনপি সরকারকেই।

বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি, আসামিদের উপস্থিতি এবং সরকারের অবস্থান—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম এখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *