নতুন বাংলাদেশের সংস্কার ও পরিবর্তনের যে জনআকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, ঘোষিত নতুন মন্ত্রিসভা তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম (Nahid Islam)। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “নতুনত্বের পরিবর্তে এই মন্ত্রিসভায় পুরনো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বন্দোবস্তের ধারাবাহিকতাই প্রতিফলিত হয়েছে।”
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, মন্ত্রিসভা গঠনে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা করা হয়নি। দেশের প্রতিষ্ঠিত বেশ কয়েকটি জেলা থেকে কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী রাখা হয়নি, যা আঞ্চলিক বৈষম্যের ইঙ্গিত দেয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, “মন্ত্রিসভা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল হয়নি; নারীর অংশগ্রহণ, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বও পর্যাপ্ত নয়।”
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে যে তারুণ্য দেশের রাজনৈতিক পথ দেখিয়েছে, সেই তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশের প্রতিফলন ঘোষিত মন্ত্রিসভায় দৃশ্যমান নয়। যদিও কয়েকজন তরুণকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তবু মন্ত্রিসভার গড় বয়স তুলনামূলক বেশি হওয়ায় নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে তার দাবি।
এনসিপি আহ্বায়ক দাবি করেন, বিএনপির সংসদ সদস্যদের প্রায় ৬২ শতাংশই ব্যবসায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত। ব্যবসায়ী হওয়া অপরাধ নয়—এ কথা উল্লেখ করেই তিনি বলেন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন ছিল। “অর্ধেকের বেশি যদি ব্যবসায়ী হন, তাহলে তারা ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় বেশি মনোযোগী হতে পারেন, জনগণের স্বার্থ নয়”—এমন আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এসব ব্যবসায়ীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন নাহিদ ইসলাম।
টিআইবির একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির সংসদের প্রায় ৬২ শতাংশ সদস্যের সম্মিলিত ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা। দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কথা বলা হলেও সংশ্লিষ্ট ঋণ কবে পরিশোধ করা হবে, সে প্রশ্ন জনগণের সামনে স্পষ্ট করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। “দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই নিজের ঘর থেকেই শুরু করতে হবে—দল ও মন্ত্রিসভা থেকে,” যোগ করেন নাহিদ।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞদের আনা হয়েছিল জাতীয় স্বার্থে। ভবিষ্যতেও তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে, তবে তা রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে হওয়া উচিত।
সবশেষে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণআন্দোলনের পর জনগণ একটি সম্পূর্ণ নতুন ও দুর্নীতিমুক্ত মন্ত্রিসভা প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু ঘোষিত মন্ত্রিসভা সেই পরিবর্তন বা সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেনি।


