নবগঠিত সরকারের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও বেগবান করার লক্ষ্য সামনে রেখে উপদেষ্টা পরিষদে বড় ধরনের দায়িত্ব বণ্টন সম্পন্ন হয়েছে। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগ পাওয়া ১০ জন উপদেষ্টার মধ্যে ৮ জনের দফতর নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party)–এর তিন সিনিয়র নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান এবং রুহুল কবীর রিজভী আহমেদকে প্রধানমন্ত্রীর ‘রাজনৈতিক উপদেষ্টা’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এই তিন নেতা এখন থেকে সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সরাসরি ভূমিকা রাখবেন। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক কর্মকৌশলের মধ্যে সমন্বয় সাধনেও তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতাকে সামনে রেখেই এই দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
একই প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, মন্ত্রী পদমর্যাদার অন্য দুই উপদেষ্টার মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ দফতর বণ্টন করা হয়েছে। মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে—যে মন্ত্রণালয় সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় দক্ষ অর্থনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতি ব্যবস্থাপনায় তার অভিজ্ঞতা ও বিশ্লেষণধর্মী অবস্থানকে সামনে রেখেই এ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যেও দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলামকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সামরিক পটভূমি ও অভিজ্ঞতার আলোকে তাকে এ দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, তরুণ ব্যক্তিত্ব মাহদী আমিনকে একসঙ্গে চারটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে—শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। একযোগে একাধিক বড় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় প্রশাসনিক মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে শিক্ষা, শ্রমবাজার ও প্রবাসী কর্মসংস্থান—এই তিনটি ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবেও এই সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে।
নবগঠিত সরকারের কার্যক্রমকে আরও সমন্বিত ও কার্যকর করতে এই দায়িত্ব বণ্টন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টারা নিজ নিজ দফতরে কতটা দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।


