দেশ গড়ার অভিযাত্রায় সবার প্রতি দায়িত্বশীলতার আহ্বান রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীর

দেশ গঠনের চলমান অভিযাত্রায় প্রত্যেকে যেন নিজের অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন—এমন আহ্বান জানিয়েছেন মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী (Mushfiqul Fazal Ansarey)। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান এবং দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে নিজের প্রত্যাশা ও অভিমত তুলে ধরেন।

পোস্টে তিনি লেখেন, বাংলাদেশকে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে দিতে জনগণের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যাত্রা শুরু হয়েছে নতুন প্রত্যাশা ও দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে। নবগঠিত মন্ত্রিপরিষদের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নিযুক্ত সকলের প্রতি তিনি আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান। তাঁদের অধিকাংশই তাঁর পরিচিত—কেউ অগ্রজ, কেউ অনুজপ্রতিম। প্রধানমন্ত্রীর আস্থার মর্যাদা তাঁরা রক্ষা করবেন—এমন প্রত্যাশার কথাও ব্যক্ত করেন তিনি। দায়িত্ব পালনে ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দেওয়াই সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রদূত।

তিনি উল্লেখ করেন, নবনির্বাচিত জনগণের প্রধানমন্ত্রীর কাঁধে রয়েছে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা এবং পাহাড়সম সমস্যা। প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে সতর্কতার সঙ্গে। মন্ত্রিপরিষদে যেমন প্রাজ্ঞ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন নবীন মুখও। নবীন হওয়া কোনো দোষ নয়—বরং একাগ্রতা ও কমিটমেন্ট থাকলে তারাই হয়ে উঠতে পারেন আগামীর শক্ত ভিত। কথা ও আচরণে দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটুক—এ প্রত্যাশাই তিনি ব্যক্ত করেন।

মানুষের সবচেয়ে বড় চাওয়া—সামাজিক শান্তি, স্থিতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম যেন ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে। সরকার প্রথম দিন থেকেই সে লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং এটিকে স্বস্তির বিষয় হিসেবে দেখেন। সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠাকে তিনি অত্যন্ত জরুরি বলে অভিহিত করেন।

‘চাঁদা’ শব্দটি বহুল আলোচিত হওয়ায় এ বিষয়ে কিছু বলা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন মুশফিকুল ফজল আনসারী। তাঁর ভাষ্য, চাঁদা শব্দটির পাশাপাশি আরও কিছু সমার্থক শব্দ রয়েছে—যেমন হাদিয়া, সাদকা কিংবা লিল্লাহ। অনেক ক্ষেত্রে এগুলো ঐচ্ছিক দান হিসেবে বিবেচিত হলেও সংগ্রহের প্রবণতা অনেক সময় অস্বাস্থ্যকর রূপ নেয়। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বল প্রয়োগ করে অর্থ আদায় দণ্ডনীয় অপরাধ। আবার ধর্মীয় অনুশাসনের দোহাই দিয়ে যত্রতত্র অর্থ সংগ্রহও নিঃসন্দেহে অগ্রহণযোগ্য।

সংস্থা, সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, খানকা ও লিল্লাহ বোর্ডিং—সব প্রতিষ্ঠানেরই পরিচালনার জন্য অর্থ প্রয়োজন। তবে তা আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি গ্রহণযোগ্য নয় বলে স্পষ্ট করেন তিনি। এ বিষয়ে রাজনৈতিক বোদ্ধারা গভীরভাবে চিন্তা করে একটি বৈধ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলবেন—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত। উন্নত বিশ্বে তহবিল সংগ্রহ একটি সুসংগঠিত ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি উদাহরণ দেন—যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার এবং কমলা হ্যারিস (Kamala Harris) প্রায় ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছেন, যা ছিল সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও স্বেচ্ছাদানের ভিত্তিতে।

দেশ গঠনের অভিযাত্রায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও লেখেন, সমালোচনার পাশাপাশি গঠনমূলক আলোচনার ক্ষেত্রও প্রসারিত হওয়া প্রয়োজন। শৃঙ্খলা, ন্যায়, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হোক আমাদের অঙ্গীকার। বাংলাদেশ এগিয়ে যাক মর্যাদা ও প্রগতির পথে—এই প্রত্যাশাতেই শেষ করেন তাঁর বক্তব্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *