কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা (Mufti Amir Hamza) ঘোষণা দিয়েছেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে অন্যায় দেখলে তিনি ও তাঁর সহযোদ্ধারা কঠোর অবস্থান নেবেন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) কুষ্টিয়া শহরের ত্রিমোহনী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে খুতবার আগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “চরমোনাই একজনসহ আমরা ৭৮ জন, আর শেরপুরের একজন বাকি আছে। এই ৭৯ জন, তারা ২১২ জন সংসদ সদস্য। মসজিদের মধ্যে বসে বলছি—১০০ ভাগ চেষ্টা চলাবো, এই ৭৯ জন মিলে তাদেরকে তীরের মতো সোজা করে রাখতে। যদি এদিক-ওদিক করে আমরা চেপে ধরবো—সে সংসদের ভেতরে হোক, আর সংসদের বাইরে হোক।”
কুষ্টিয়া-৩ (Kushtia-3) আসনের এই এমপি বলেন, তাঁর কাছে দল বা ধর্ম নয়, ন্যায়বিচারই প্রধান। “চাঁদাবাজি আমার দলের লোক করলে অসুবিধা নেই, অন্য দলের লোক করলেই ধরা লাগবে—এটা ন্যায় বিচার না,” উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১ লাখ ৮৩ হাজার ভোট পেলেও তিনি সাড়ে ৪ লাখ ভোটারের প্রতিনিধি। “আমি সবার এমপি। সবাইকে আপন ভাই-বোন মনে করে আগামী পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করতে চাই।”
সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, শুরুতে অনেক নিয়ম জানা ছিল না, তবে এখন সংবিধান, কার্যপ্রণালী ও মন্ত্রণালয়ের কাজ সম্পর্কে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ধারণা নিচ্ছেন। “সরকারি নেই, বিরোধীতে আছি। সরকারি ও বিরোধী দলের এমপির বরাদ্দ সমান। কিছু জায়গায় লাইন-ঘাট করে বাড়ানো যায়। আমি চেষ্টা করবো আমার এই ফেস ভ্যালু কাজে লাগিয়ে আপনাদের জন্য কিছু করতে।”
নিজের ব্যক্তিগত চাহিদার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার আর লাগবে না, যা আছে আছেই। আল্লাহ আমাকে আলাদা চেহারা দিয়েছেন—এই ফেসটা বিভিন্ন জায়গায় কাজে লাগিয়ে আপনাদের জন্য শ্রম দিতে চাই।”
তাফসির মাহফিল প্রসঙ্গে এসে তিনি স্বীকার করেন, এখন আগের মতো সময় দেওয়া সম্ভব হবে না। সংসদ সদস্যের কাজের চাপ সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি সাবেক এমপি মমতাজ (Momtaz)-এর প্রসঙ্গ টানেন। “দুই দিন ট্রেনিং নিয়ে মনে হচ্ছে, মমতাজ এতো কাজ করতো কী করে? আমার মনে হয়, এসব কিছুই জানতো না—খালি গান বলা ছাড়া ওর কোনো কাজ নেই। কিন্তু আমাদের তো আর গান বলার সিস্টেম নেই। কাজ করতে হবে, পড়তে হবে, সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে হবে।”
সংসদের সময় ব্যবহারের বিষয়েও সচেতনতার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, বিরোধী দলের সময় ফ্লোর বেশি দেওয়া হয় এবং এক মিনিট সংসদ চললে ১৯ হাজার টাকা খরচ হয়। “এগুলো আপনাদেরই টাকা। এই টাকার মূল্যায়ন করা দরকার, যেন হক আদায় করতে পারি।”
কুষ্টিয়াকে ঘিরে তাঁর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন আমির হামজা। “আমার আসন নিয়ে, আমার কুষ্টিয়া (Kushtia) জেলা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিষয় যেগুলো আসবে, সব নোট করে আপনাদের পরামর্শ নেবো।” তিনি জানান, তাঁর আসনের ভেতরে তিনজনই জামায়াতে ইসলামি (Bangladesh Jamaat-e-Islami)-এর এমপি। পাশাপাশি বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party)-এর রেজা বাচ্চু ভাইয়ের সঙ্গেও সমন্বয় করে কুষ্টিয়াকে সাজাতে চান।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আজ সদর হাসপাতালে গিয়ে মাথা খারাপ হয়ে গেছে। আগেও দেখেছি, কিন্তু মুখ খুলতে পারতাম না। এখন দেখলাম রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনিয়ম। এগুলো মেটাতে চাই। আপনাদের সঙ্গে থাকতে হবে—দল মত দেখবেন না।”
চাঁদাবাজির বিষয়ে তাঁর অবস্থান আরও কঠোর। তিনি বলেন, মাইকিংয়ের পর ত্রিমোহনী ও মজমপুর এলাকায় চাঁদা তোলা বন্ধ হয়েছে, তবে অন্য কৌশলে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। “যে কায়দায় নেন না কেন, ঘুষ ঘুষই। করবো না, কাউকে করতেও দেবো না। সে যত বড় মহারথী হোক, আমি দেখবো।”


