গোলাম আযমের প্রাপ্য স্বীকৃতি আজও মেলেনি, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ: জামায়াত নেতা আযাদ

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ (Hamidur Rahman Azad) বলেছেন, ৫২’ র ভাষা আন্দোলনের হরতালে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে যারা সেদিন পিকেটিং করেছিলেন এবং পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন—তাদের মধ্যে একজন ছিলেন অধ্যাপক গোলাম আযম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই স্বীকৃতি জাতি আজও দিতে পারেনি। তিনি দাবি করেন, গোলাম আযম নিজেও অনুশোচনা প্রকাশ করেছিলেন যে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃত হয়েছে।

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)-র ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (University of Chittagong)-এর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আর আই চৌধুরীর উদ্ধৃতি তুলে ধরেন।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আর আই চৌধুরী বলেছেন, “৫২-এর ভাষা আন্দোলনের হরতালে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে যারা সেদিন পিকেটিং করেছিলেন, পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন, আমি দেখেছি পুলিশের ভ্যানে কারা কারা ছিলেন—তার মধ্যে একজন নেতা ছিলেন, যার নাম অধ্যাপক গোলাম আযম।” কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো—এই স্বীকৃতিটা এই জাতি আজও দিতে পারেনি। উনি অনুশোচনা করেছিলেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃত হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, সাতটি দশক পেরিয়ে গেলেও আজও ভাষা সৈনিকের তালিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। যেমনটি মুক্তিযোদ্ধার তালিকা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তেমনি ভাষা সৈনিকের তালিকাও একইভাবে বিতর্কের মুখে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, এর মূল কারণ হলো—প্রকৃত যারা ভাষা আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের অনেককেই রাজনৈতিক বিবেচনা ও মানসিক সংকীর্ণতার কারণে যথাযথ মর্যাদার স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি বলেন, মাত্র ৩৬ দিনের মধ্যে একটি ফ্যাসিবাদী শক্তিকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। কিন্তু যে চেতনা নিয়ে বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেখান থেকে জাতিকে বিচ্যুত করার ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রকে সুসংহত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন উল্লেখ করে আযাদ বলেন, জুলাই চেতনা ও জুলাই সংস্কারকে বাদ দিয়ে গণতন্ত্র সুসংহত করা সম্ভব নয়। তা না হলে স্বৈরতন্ত্র আবার ফিরে আসবে। তার অভিযোগ, গণতন্ত্রকে সুসংহত নয়, বরং স্বৈরতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার পথেই কেউ কেউ হাঁটছেন।

তিনি বলেন, “মেহেরবানী করে আমরা আহ্বানও জানাই—আপনাদের মধ্যে শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। আমরা রাজপথ বেছে নিতে চাই না। আমরা দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে সংসদে ফয়সালা করতে চাই। তবে আমাদের রাজপথে ঠেলে দিতে বাধ্য করবেন না।”

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir)-কে উদ্দেশ্য করে আযাদ বলেন, আপনি বলছেন বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশই হবে ২১-এর চেতনা। কিন্তু জুলাই বিপ্লব অস্বীকার করে, সংবিধান সংস্কারের শপথ উপেক্ষা করে, সংস্কার ছাড়াই কীভাবে বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব? তার দাবি, জুলাই বিপ্লব হয়েছিল বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশের লক্ষ্যেই—ইনসাফভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে।

সবশেষে তিনি বলেন, “আল্লাহর ওয়াস্তে আর রক্ত ঝরাইয়েন না। গণতন্ত্রের জন্য রক্তক্ষরণ, জীবন দেওয়ার দীর্ঘ ইতিহাস আমরা পার করেছি। এবার আমরা দেশটাকে গড়তে চাই। বাংলাদেশের মানুষ সেই গণতন্ত্র আর দেখতে চায় না, যে গণতন্ত্র রক্তপাত ঘটায়, অধিকার কেড়ে নেয়।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *