দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই – Directorate General of Forces Intelligence) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) পাচ্ছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরীকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শিগগিরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (Ministry of Defence)-এর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নতুন দায়িত্ব দিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Ministry of Foreign Affairs)-এ বদলি করা হয়েছে। ফলে গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ পদে এই পরিবর্তন আসছে।
একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রদবদল হয়েছে। আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের (আর্টডক) জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমানকে সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আগে এই পদে থাকা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম সম্প্রতি অবসরে গেছেন।
এছাড়া বর্তমান প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানকেও রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব দিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে, যা সামরিক ও কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চট্টগ্রামের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ (Armed Forces Division)-এর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) করা হয়েছে। অন্যদিকে, দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশন (Bangladesh High Commission)-এ প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. হাফিজুর রহমানকে পদোন্নতি দিয়ে মেজর জেনারেল করা হয়েছে। তাকে যশোরের ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে থাকা মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলামকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারের কমান্ড্যান্ট পদে বদলি করা হয়েছে। একই সময়ে বর্তমান কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল ফেরদৌস হাসানকে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে এই রদবদলকে সেনাবাহিনীর কৌশলগত পুনর্বিন্যাস এবং প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। গোয়েন্দা সংস্থা থেকে শুরু করে কূটনৈতিক দায়িত্ব—সব মিলিয়ে একযোগে এই পরিবর্তন সামরিক কাঠামোয় নতুন সমন্বয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


