সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপি থেকে এমপি পদে আলোচনায় উঠে এসেছে আফরোজা খন্দকার (নিপু) নামটি। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকা রাখা এই রাজনীতিক দীর্ঘদিন ধরেই দলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত। ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতির অঙ্গনে তাঁর অংশগ্রহণ এখন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী ছাত্রী হল সংসদের সাবেক নির্বাচিত জিএস এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য (রিজভী-ইলিয়াস কমিটি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আফরোজা খন্দকারকে দলীয় মহলে একজন অভিজ্ঞ ও নিবেদিত সংগঠক হিসেবেই দেখা হয়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Dhaka)-এ অধ্যয়নকালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। নেতৃত্বের দক্ষতা, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং মাঠপর্যায়ের জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে ধীরে ধীরে তিনি নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান গড়ে তোলেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯০ সালের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার অভিজ্ঞতা তাঁকে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত মুখে পরিণত করে। তবে রাজনৈতিক পথচলা ছিল না মসৃণ। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা দাবি করেন। শুধুমাত্র বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তাঁকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স (Biman Bangladesh Airlines)-এর ডিজিএম পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়—এমন অভিযোগও উঠে আসে সে সময়।
আফরোজা খন্দকার সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। শিক্ষাজীবনের পাঠ ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে সমন্বয় করে তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকায় সমাজসেবা, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং দলীয় সংগঠন শক্তিশালীকরণে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর পক্ষে জনসংযোগ উপ-কমিটি (বনানী-ভাসানটেক)-এর যুগ্ম সমন্বয়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এই দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দলীয় কাঠামোর ভেতরে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি আরও সুস্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যক্তিগত জীবনেও তাঁর রাজনৈতিক পরিমণ্ডল বিস্তৃত। তাঁর স্বামী মো. সাইদুর রহমান (সাইদ সোহরাব) (Md. Saidur Rahman) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হল ছাত্র সংসদের সাবেক নির্বাচিত জিএস। বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সংরক্ষিত নারী আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আফরোজা খন্দকার নিপুর নাম ঘিরে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, আন্দোলনের অভিজ্ঞতা এবং সংগঠক হিসেবে পরিচিতির ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন—এমনটাই মনে করছেন দলীয় পর্যবেক্ষকরা।


