ফরিদপুর জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizen Party)–এর যুগ্ম-সদস্য সচিব হায়দার মোল্যা (Haydar Molla) পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দলীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের কাছে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে হায়দার মোল্যা জানান, ব্যক্তিগত ব্যস্ততা ও পারিবারিক কারণেই তিনি স্বেচ্ছায় এবং সুস্থ চিন্তাভাবনার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি হঠাৎ আবেগের বশবর্তী কোনো সিদ্ধান্ত নয়; বরং পরিস্থিতি বিবেচনা করেই তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে থাকবেন কি না—সেই প্রশ্নে এখনই কোনো চূড়ান্ত অবস্থান জানাননি।
পদত্যাগপত্রে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে লিখেছেন, ‘আমি হায়দার মোল্যা, ফরিদপুর জেলা এনসিপির যুগ্ম-সদস্য সচিব পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছি।’ পাশাপাশি দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রতি ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তার এই বার্তায় রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে—এটি কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপট।
এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা এনসিপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদ (Shahed Ahmed) বলেন, ‘হায়দার মোল্যার পদত্যাগপত্রের কপি আমি পেয়েছি। এটি কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো হবে। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশে যেকোনো ব্যক্তি তার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে। কেউ চাইলে দল ছাড়তে পারে বা অন্য কোনো রাজনৈতিক ধারায় যুক্ত হতে পারে। এটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিরই অংশ।’
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে এ ধরনের পদত্যাগ জেলা পর্যায়ের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সাংগঠনিক কার্যক্রম, কর্মীদের মনোবল এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিন্যাসে এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে হায়দার মোল্যার পদত্যাগের পেছনে কেবল ব্যক্তিগত কারণই রয়েছে, নাকি এর সঙ্গে জড়িত আছে অন্য কোনো রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক বাস্তবতা—তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চললেও দলীয়ভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করা হয়নি।


